শিহাব মিয়া, মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি:
সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার জলুষা ও আমজোড়া দুই গ্রামের বাসিন্দাদের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধের জেরে ফের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে আমজোড়া গ্রামের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষে টেটাবিদ্ধ হয়ে দুজন গুরুতর আহতসহ উভয়পক্ষের অন্তত ছয় থেকে সাতজন আহত হয়েছেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, জলুষা গ্রামের কয়েকজনের সঙ্গে আমজোড়া গ্রামের ইউপি সদস্য উজ্জ্বল মেম্বার ও তার অনুসারীদের প্রায় দেড় বছর ধরে বিরোধ চলে আসছে। অতীতেও কয়েকবার তাদের মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি মীমাংসায় স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উদ্যোগ নিলেও স্থায়ী সমাধান হয়নি।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুরে পুরনো দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে আমজোড়া গ্রামের উজ্জ্বল মেম্বার পায়ে এবং তার চাচাতো ভাই মোশারফ বুকে টেটাবিদ্ধ হন। এছাড়া উভয়পক্ষের আরও অন্তত ছয়-সাতজন আহত হন। খবর পেয়ে মধ্যনগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
জলুষা গ্রামের বাসিন্দা মিজানুর রহমান অভিযোগ করেন, তিনি ডিম নিয়ে বাজারে যাওয়ার সময় আমজোড়া গ্রামের সামনে পৌঁছালে উজ্জ্বল মেম্বারের মামা জয়ধর তার পথরোধ করে তাকে মারধর করেন এবং তার কাছে থাকা স্মার্টফোন ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেন। পরে তিনি থানায় অভিযোগ জানাতে গেলে তাকে আটক করা হয়। অপর পক্ষের আহত হওয়ার বিষয়ে তিনি অবগত নন বলেও দাবি করেন।
অন্যদিকে আহত উজ্জ্বল মেম্বার জানান, দীর্ঘ দেড় বছর ধরে তারা জলুষা গ্রামের সামনে দিয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারছেন না। স্থানীয় বাজার কিংবা উপজেলা সদরে যেতেও নানা বাধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে। তার অভিযোগ, বৃহস্পতিবার দুপুরে জলুষা গ্রামের মিজান, শাহ আলম ও খসরুর নেতৃত্বে তাদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। এতে তিনি ও তার ভাই টেটাবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন এবং বাড়ির নারী সদস্যসহ আরও কয়েকজন আঘাতপ্রাপ্ত হন।
এ বিষয়ে মধ্যনগর থানার ওসি এ.কে.এম. শাহাব উদ্দিন বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এখন পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে জলুষা গ্রামের মিজানুর রহমান নামে একজনকে আটক করা হয়েছে এবং তাকে আদালতে পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এলাকায় পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলেও জানান তিনি।