• রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ০৬:৪০ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
ছয় মাস পর সুন্দরবনে ফিরল সেই বাঘিনী: অবমুক্ত করলেন পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী এক মাসেই ধসে পড়ল কোটি টাকার সড়ক, নির্মাণমান নিয়ে প্রশ্ন; তদন্তের দাবি এলাকাবাসীর কুমিল্লা দাউদকান্দিতে মোহনা টেলিভিশনের কার্যালয়ে লুট: জড়িতদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে সাংবাদিকদের মানববন্ধন ফটোসেশন রাজনীতি: ছবির ঝলকানিতে হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃত রাজনীতি বাকশীমুল উচ্চ বিদ্যালয়ের এডহক কমিটির সভাপতি এমদাদুল হক ধীমানের সভাপতিত্বে প্রথম সভা ও মিলাদ অনুষ্ঠিত তানোরে গভীর রাতে দোকান পুড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি, ফ্রিজ-টিভি চুরিরও অভিযোগ পাঁচজনের বিরুদ্ধে মামলা আসন্ন ইউপি নির্বাচন: বাকশীমূল ইউনিয়নে প্রার্থী হতে আগ্রহী সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবির জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসের ওপর ভেঙে পড়ল গাছ ফুলতলায় প্রাইমারী স্কুলের অবসরপ্রাপ্ত ৪০ শিক্ষকের বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত নকলের সুযোগ না পেয়ে চরফ্যাশনের এইচএসসি পরীক্ষাকেন্দ্রে হামলা-ভাঙচুর, পুলিশের টিয়ারশেল নিক্ষেপ

ফটোসেশন রাজনীতি: ছবির ঝলকানিতে হারিয়ে যাচ্ছে প্রকৃত রাজনীতি

Reporter Name / ৩৩ Time View
Update : রবিবার, ১২ জুলাই, ২০২৬

নিউজ ডেস্ক

বর্তমান সময়ে রাজনীতির একটি নতুন সংস্কৃতি চোখে পড়ে—”ফটোসেশন রাজনীতি”। একসময় রাজনীতি ছিল মানুষের অধিকার আদায়, জনকল্যাণ এবং আদর্শ প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম। আজ অনেক ক্ষেত্রেই সেই রাজনীতি সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে ক্যামেরার সামনে হাসিমুখে দাঁড়ানো, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ এবং প্রচারের প্রতিযোগিতায়।

এখন অনেক রাজনৈতিক কর্মসূচিতে দেখা যায়, মানুষের সমস্যার সমাধানের চেয়ে ছবি তোলার আয়োজনই বেশি গুরুত্ব পায়। একটি গাছ লাগানোর আগে ক্যামেরা প্রস্তুত হয়, একটি কম্বল বিতরণের আগে ফটোগ্রাফারকে ডাকা হয়, একটি সভার মূল আলোচনার চেয়ে ছবি তোলার সময়টাই যেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। অথচ সাধারণ মানুষ জানতে চায়—ছবির পর বাস্তবে কী পরিবর্তন হলো?

এই ফটোসেশন সংস্কৃতির সবচেয়ে বড় ক্ষতি হচ্ছে, প্রকৃত ত্যাগী ও জনবান্ধব রাজনৈতিক কর্মীরা আড়ালে থেকে যাচ্ছেন। যারা বছরের পর বছর মানুষের পাশে থাকেন, দুর্দিনে সহযোগিতা করেন, ব্যক্তিগত স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে কাজ করেন—তাদের অনেকেরই প্রচারের আলো নেই। অন্যদিকে, শুধুমাত্র ক্যামেরার সামনে উপস্থিত থাকার দক্ষতায় কেউ কেউ নিজেকে বড় নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা করছেন।

এর ফলে নতুন প্রজন্মের কাছেও রাজনীতির একটি ভুল ধারণা তৈরি হচ্ছে। তারা মনে করছে, রাজনীতি মানেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবি প্রকাশ, ব্যানার, পোস্টার কিংবা প্রচারণা। অথচ প্রকৃত রাজনীতি হলো মানুষের বিশ্বাস অর্জন, নৈতিকতা বজায় রাখা এবং জনগণের সুখ-দুঃখের সঙ্গী হওয়া।

একটি জাতির রাজনৈতিক সংস্কৃতি তখনই শক্তিশালী হয়, যখন নেতৃত্ব মূল্যায়ন করা হয় কাজ, সততা, জবাবদিহি ও জনসম্পৃক্ততার ভিত্তিতে; ক্যামেরার ফ্ল্যাশের ভিত্তিতে নয়। কারণ ছবি মুহূর্তের স্মৃতি তৈরি করতে পারে, কিন্তু মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নিতে পারে কেবল আন্তরিক সেবা ও আদর্শ।

রাজনীতিকে যদি কেবল প্রচারের মাধ্যম বানিয়ে ফেলা হয়, তবে প্রকৃত নেতৃত্ব ধীরে ধীরে হারিয়ে যাবে। তখন সমাজে এমন এক সংস্কৃতি গড়ে উঠবে, যেখানে কাজের চেয়ে প্রচার বেশি মূল্য পাবে। এটি গণতন্ত্র ও সুস্থ রাজনৈতিক চর্চার জন্য মোটেও ইতিবাচক নয়।

সময় এসেছে ফটোসেশন রাজনীতির মোহ থেকে বেরিয়ে আসার। রাজনৈতিক দল, নেতা ও কর্মীদের মনে রাখতে হবে—জনগণ এখন শুধু ছবি দেখে নয়, কাজের ফলও বিচার করে। মানুষ এমন নেতৃত্ব চায়, যারা ক্যামেরা না থাকলেও মানুষের পাশে দাঁড়ায়, প্রচারের আলো না থাকলেও দায়িত্ব পালন করে।

প্রকৃত রাজনীতি ছবিতে নয়, মানুষের আস্থায় বেঁচে থাকে। আর সেই আস্থা অর্জন করা যায় কেবল নিষ্ঠা, সততা এবং নিরলস জনসেবার মাধ্যমে।

লেখক পরিচিতিঃ মোঃ শাহজাহান বাশার ,সাংবাদিক ও কলামিস্ট
নির্বাহী সম্পাদক দৈনিক যুগান্তর বাংলাদেশ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd