হামিদুর রহমান, তানোর রাজশাহী প্রতিনিধি:
আজকের পদক্ষেপ, আগামীর ন্যায়বিচার; সুরক্ষিত হোক নারী ও কন্যার অধিকার”—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে International Women’s Day উপলক্ষে Tanore Upazila-য় বর্ণাঢ্য আয়োজনে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষে র্যালি ও আলোচনা সভার আয়োজন করে উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর।
রোববার (৮ মার্চ) বেলা ১১টার দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বর থেকে একটি বর্ণাঢ্য র্যালি বের করা হয়। র্যালিটি উপজেলা সদরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে পুনরায় উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয়। এ সময় নারী অধিকার, নারীর নিরাপত্তা, সমঅধিকার এবং নারী ও কন্যাশিশুর সুরক্ষার বিভিন্ন বার্তা সংবলিত প্ল্যাকার্ড ও ব্যানার হাতে অংশগ্রহণকারীদের দেখা যায়।
র্যালি শেষে উপজেলা পরিষদ হলরুমে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব ও সঞ্চালনা করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা হাবিবা খাতুন।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তানোর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর মাওলানা আলমগীর হোসেন, উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. বার্নাবাস হাসদাঁক, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আলেয়া ফেরদৌসী, উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সুস্মিতা রায়, তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মাসুদ পারভেজ এবং উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা জেবানুর রহমান।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে বলেন, নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে একযোগে কাজ করতে হবে। নারীর ক্ষমতায়ন ছাড়া টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান এবং সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে নারীদের এগিয়ে নিতে হবে।
তারা আরও বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা, বাল্যবিবাহ ও বৈষম্য রোধে পরিবার, সমাজ ও প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। নারীকে সমাজের বোঝা নয়, বরং উন্নয়নের অন্যতম চালিকাশক্তি হিসেবে দেখতে হবে।
আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিভিন্ন এনজিও ফোরামের প্রতিনিধি, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা, বিভিন্ন সুবিধাভোগী নারী সদস্য এবং স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা।
উপস্থিত বক্তারা আন্তর্জাতিক নারী দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে বলেন, এই দিবস শুধু উদযাপনের জন্য নয়, বরং নারীর অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করার দিন। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নারী ও কন্যাশিশুর জন্য একটি নিরাপদ ও সমতাভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।