• রবিবার, ০১ মার্চ ২০২৬, ০৩:১১ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
তানোরে তালন্দ ললিত মোহন ডিগ্রি কলেজে নিয়োগ তদন্তে বাধা, বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তাকে হুমকি — স্থগিত তদন্ত, রোববার ফের শুনানির দিন দেবিদ্বারে চাঁদাবাজি-মাদকের বিরুদ্ধে এমপি হাসনাতের কঠোর বার্তা ধর্মপাশায় নেশার টাকার জন্য মাকে মারধর, তরুণের ৬ মাসের কারাদণ্ড আনোয়ারায় শাওলিন কুংফু এন্ড উশু একাডেমির ইফতার মাহফিল সম্পন্ন মধ্যনগরে পূর্ব বিরোধে দুই গ্রামবাসীর সংঘর্ষে টেটাবিদ্ধ ২, আহত আরও কয়েকজন ফকিরহাটে মাদ্রাসা পর্যায়ে একমাত্র ট্যালেন্টপুল বৃত্তি পেল মেহেনাজ আক্তার সোহাগী ফকিরহাটে এমপির সাথে সরকারি কর্মকর্তাদের মতবিনিময় ভান্ডারিয়ায় সরিষা ও গমের বাম্পার ফলনে কৃষক ও ফুল প্রেমিদের উচ্ছ্বাস ভান্ডারিয়ায় বিদেশী পিস্তল সহ একজনকে গ্রেপ্তার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ গুলশানের সেই রাজনৈতিক ঠিকানা থেকে মন্ত্রিসভায়: জাকারিয়া তাহেরের আলোচিত উত্থান

তানোরে তালন্দ ললিত মোহন ডিগ্রি কলেজে নিয়োগ তদন্তে বাধা, বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তাকে হুমকি — স্থগিত তদন্ত, রোববার ফের শুনানির দিন

Reporter Name / ২৭ Time View
Update : শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

হামিদুর রহমান, তানোর রাজশাহী প্রতিনিধি :

রাজশাহীর তানোর উপজেলা পৌর এলাকার ঐতিহ্যবাহী তালন্দ ললিত মোহন ডিগ্রি কলেজ–এর শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত চলাকালে বাদী ও তদন্ত কর্মকর্তাকে চাপে ফেলতে হট্টগোল ও মব সৃষ্টি করা হয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে। এতে তদন্ত কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে যায়।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) দুপুরের পর তানোর উপজেলা পরিষদ চত্বরের কৃষি অফিস ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে।
তদন্তের দিন হট্টগোল, প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, তদন্ত শুরুর আগেই নিয়োগের পক্ষ ও বিপক্ষের কয়েকজন শিক্ষক ও সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় বাদীর ওপর মারমুখী আচরণ, হুমকি ও বিশৃঙ্খলার সৃষ্টি হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। ফলে তদন্ত কার্যক্রম স্থগিত করতে বাধ্য হন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এ ঘটনায় কলেজের শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি সাজ্জাদ হোসেন প্রকাশ্যে কলেজ শিক্ষক কবিরকে “দেখে নেওয়ার” হুমকি দেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগে বলা হয়েছে—
সরকারি বিধি লঙ্ঘন করে অধ্যক্ষসহ চারটি পদে নিয়োগের আগেই প্রায় কোটি টাকার লেনদেন হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে (Facebook) লেখালেখি ভাইরাল হয়।
জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে কলেজ শিক্ষক নজরুল ইসলামকে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে পদায়ন করা হয়েছে।
এই অভিযোগে চলতি বছরের ১২ জানুয়ারি কলেজের অনিয়ম তদন্ত ও নিয়োগ স্থগিত চেয়ে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে পৃথক আবেদন করেন এলাকার শিক্ষানুরাগী আব্দুস সালাম মাস্টার।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তদন্ত করে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশ দেন উপজেলা প্রকৌশলী ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাকে।
এ জন্য ২৬ ফেব্রুয়ারি বৃহস্পতিবার দুপুর ২টায় উপজেলা কৃষি অফিসে বাদী ও বিবাদীপক্ষকে উপস্থিত থাকতে নোটিশ দেওয়া হয়।
তবে তদন্ত শুরুর আগেই অফিসের নিচে রাস্তায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে তদন্ত কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
অভিযোগকারী আব্দুস সালাম মাস্টার বলেন,
“সরকারি বিধি অনুযায়ী অধ্যক্ষ নিয়োগের কর্তৃপক্ষ হচ্ছে বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ)। কিন্তু এখানে সে নিয়ম মানা হয়নি। তদন্তের দিন আমাকে ও কর্মকর্তাদের ওপর পেশিশক্তির মহড়া দেখিয়ে বাধা দেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও জানান, বুধবার তাকে উপজেলা কৃষি অফিসার নোটিশ দেন এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ উপস্থিত থাকতে বলা হয়। তিনি সরেজমিনে কলেজে তদন্ত করার অনুরোধ জানিয়ে লিখিত আবেদনও করেন। পরে বাধ্য হয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দপ্তরে সময় চেয়ে আবেদন করেন এবং রিসিভ কপিও নেন।
বর্তমানে তিনি অসুস্থ থাকায় বাড়িতে অবস্থান করছেন বলেও জানান।
কলেজের শিক্ষক কবির ও মুখলেস বলেন,
“কলেজ এখন ছুটি। ঘরে বসে তদন্ত হয় না। নিয়োগের সঙ্গে যারা জড়িত, তারা নিয়োগ দিতে মরিয়া হয়ে পড়েছে। যদি কোটি টাকার বিনিময়ে আগে থেকেই প্রার্থী ঠিক করা হয়, তাহলে এমন মরিয়া আচরণ স্বাভাবিক। আমরা চাই মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হোক।
কলেজের শিক্ষক প্রতিনিধি ও শিক্ষক সাজ্জাদ হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,
“কোনো টাকা-পয়সার লেনদেন হয়নি। জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষও করা হয়নি। সালাম না জেনে এসব করছেন। সময় হলে সব কথা বলা হবে।”
তদন্ত কর্মকর্তা তানোর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাইফুল্লাহ আহম্মেদ ও উপজেলা প্রকৌশলী নুরনাহান বলেন,
“তদন্ত কর্মকর্তাকে চাপে ফেলে একতরফা প্রতিবেদন নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। বাদীর আবেদনের প্রেক্ষিতে আগামী ১ মার্চ (রোববার) শুনানির দিন ধার্য করা হবে। ওই দিন কেউ অনুপস্থিত থাকলে সেদিনই সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা খান বলেন,
“তালন্দ ললিত মোহন ডিগ্রি কলেজে নিয়োগ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের তদন্ত চলমান রয়েছে। তদন্ত কর্মকর্তাকে চাপে ফেলে একতরফা প্রতিবেদন নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। নিরপেক্ষভাবেই তদন্ত সম্পন্ন করা হবে।”
বর্তমানে এ ঘটনাকে ঘিরে পুরো তানোর জুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় শিক্ষানুরাগী মহল দ্রুত স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে নিয়োগ প্রক্রিয়ার প্রকৃত চিত্র উদঘাটনের দাবি


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd