মোঃ শাহজাহান বাশার
নিজের জন্মভূমিকে শিক্ষার আলোয় আলোকিত করার স্বপ্ন নিয়ে দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার কৃতি সন্তান ও আমেরিকা প্রবাসী শিক্ষানুরাগী মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী। শিক্ষা বিস্তার, মানবিক মূল্যবোধ ও সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ এবার তিনি অর্জন করলেন মর্যাদাপূর্ণ ‘কবি নজরুল স্মারক সম্মাননা’।
মঙ্গলবার (১৯ মে ২০২৬) সন্ধ্যায় রাজধানীর বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যকলা কেন্দ্রের সেমিনার হলরুমে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানে তাকে এ সম্মাননা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানের আয়োজন করে সাংস্কৃতিক সংগঠন ‘পূবের হাওয়া’ ও জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতি পরিষদ।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিচারপতি সিকদার মকবুল হক। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম স্মৃতি পরিষদের মহাসচিব মিলন মল্লিকের সঞ্চালনায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে উদ্বোধক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি রেজাউদ্দীন স্টালিন। প্রধান অতিথি ছিলেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী অ্যাডভোকেট নিতাই রায় চৌধুরী এমপি। এছাড়াও প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন একুশে ও স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সুকোমল বড়ুয়া। অনুষ্ঠানে দেশের বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাহিত্যিক, সাংবাদিক ও সংস্কৃতিপ্রেমীরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে স্বাগত বক্তব্য দেন ‘পূবের হাওয়া’র সাধারণ সম্পাদক নজরুল ইসলাম সাচী। বক্তারা বলেন, সমাজ পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হচ্ছে শিক্ষা, আর সেই শিক্ষার আলো গ্রামবাংলার সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছেন মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী। তার মতো প্রবাসী শিক্ষানুরাগীরা দেশের উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
সম্মাননা গ্রহণ শেষে মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, “আমি সবসময় বিশ্বাস করি, শিক্ষা মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ। প্রবাসে থেকেও আমার হৃদয় সবসময় দেশের মানুষের জন্য কাঁদে। ব্রাহ্মণপাড়ার শিক্ষার্থীরা যেন আধুনিক ও মানসম্মত শিক্ষা পায়, সেটিই আমার জীবনের অন্যতম লক্ষ্য।”
জানা গেছে, দীর্ঘ ৪৪ বছরের প্রবাসজীবনে কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দেশের শিক্ষা খাতে ব্যয় করে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তিনি। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় তার প্রতিষ্ঠিত একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই স্থানীয় শিক্ষাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এর মধ্যে ‘মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী ডিগ্রি (বিশ্ববিদ্যালয়) কলেজ’ বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। প্রতিষ্ঠানটি এলাকার অসংখ্য শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন পূরণে কাজ করে যাচ্ছে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, একজন প্রবাসী হয়েও নিজ এলাকার শিক্ষা উন্নয়নে মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর নিবেদন সত্যিই প্রশংসনীয়। ব্যক্তিগত সাফল্যের চেয়ে সমাজ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কল্যাণকে প্রাধান্য দেওয়ার যে দৃষ্টান্ত তিনি স্থাপন করেছেন, তা নতুন প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে।
শিক্ষা, মানবতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতার অনন্য সমন্বয়ে গড়ে ওঠা মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরীর এই অর্জনে ব্রাহ্মণপাড়া তথা কুমিল্লাবাসীর মাঝেও আনন্দের বন্যা বইছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ তাকে অভিনন্দন ও শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন।