• মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩০ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
হলুদ সাংবাদিকতার আড়ালে ভুয়া সংগঠন: লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ফরিদ চিসতির বিরুদ্ধে কেদার মহিলা কলেজে গরীব ও মেধাবী ছাত্রীদের মাঝে বিনামূল্যে বই বিতরণ পিরোজপুরে পোল্ট্রি খামারে আগুন, ১৫ লাখ টাকার ক্ষতির অভিযোগ শিব নদীতে মাছ নেই, জীবিকার তাগিদে শামুক সংগ্রহে মৎস্যজীবীরা নাগেশ্বরীতে আধুনিক কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতে ‘পার্টনার কংগ্রেস’ ভাণ্ডারিয়ায় ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম নিয়ে প্রেস কনফারেন্স তানোর ভূমি অফিসের পেশকার সাজ্জাদ সুমনের বিরুদ্ধে ঘুষের টাকা নেওয়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে অসদাচরণের অভিযোগ ​একটি খবরের সূত্র ধরে চরের কুঁড়েঘরে ইউএনও: দুই দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী পরিবারে মানবিক আলোর স্পর্শ নাগেশ্বরীতে নিয়োগ জালিয়াতির অভিযোগ: সুপারের দাবি ‘ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের অপচেষ্টা দুর্গাপূজায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও দায়িত্ব পালনের নির্দেশ পুলিশ কমিশনারের

শিব নদীতে মাছ নেই, জীবিকার তাগিদে শামুক সংগ্রহে মৎস্যজীবীরা

Reporter Name / ২৮ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৩ অক্টোবর, ২০২৬

 

হামিদুর রহমান,রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি :

এক সময় মাছের প্রাচুর্যে ভরপুর ছিল রাজশাহীর তানোর উপজেলার শিব নদী। নদীর পানি ও মাছকে ঘিরেই জীবিকা নির্বাহ করতেন স্থানীয় অসংখ্য মৎস্যজীবী। ভোর থেকে নদীতে জাল ফেললেই মিলত বিভিন্ন প্রজাতির মাছ। সেই মাছ বিক্রির আয়েই চলত তাদের সংসার। কিন্তু সময়ের সঙ্গে বদলে গেছে শিব নদীর চিত্র। পানি কমে যাওয়া, নদীর বিভিন্ন অংশে দখল ও পরিবেশগত নানা সমস্যার কারণে কমেছে মাছের উৎপাদন। ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন নদীনির্ভর মৎস্যজীবীরা। মাছ না পেয়ে এখন জীবিকার তাগিদে নদী ও আশপাশের বিল থেকে শামুক সংগ্রহ করে বিক্রি করছেন তারা।
তানোর পৌর সদরের কুটিপাড়া গ্রামের মৎস্যজীবী আজাহার আলী জানান, মাছ ধরেই দীর্ঘদিন ধরে তার সংসার চলেছে। কিন্তু নদীতে আগের মতো পানি ও মাছ না থাকায় এখন আর জাল ফেলে তেমন মাছ পাওয়া যায় না। বাধ্য হয়ে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিল ও নদীর বিভিন্ন স্থান থেকে শামুক সংগ্রহ করছেন তিনি।
মৎস্যজীবীদের ভাষ্য অনুযায়ী, এক বস্তা শামুক সংগ্রহ করে দিলে মাত্র ৪০ টাকা পাওয়া যায়। দিনভর পরিশ্রম করে এই সামান্য আয় দিয়েই কোনো রকমে সংসারের খরচ চালাতে হচ্ছে তাদের। তাদের মতো আরও অনেক মৎস্যজীবী একইভাবে মাছ ধরার পরিবর্তে শামুক সংগ্রহকে জীবিকার বিকল্প হিসেবে বেছে নিয়েছেন।
স্থানীয় মৎস্যজীবী রমজান ও হাসেম বলেন, শামুকগুলো স্থানীয় বাজারে বিক্রি করা হয়। এগুলো হাঁসের খাদ্যসহ বিভিন্ন কাজে ব্যবহার করা হয়। শামুক বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যায়, তা দিয়েই কোনোভাবে সংসার চালাতে হচ্ছে। মাছ পাওয়া গেলে তারা শামুক সংগ্রহ করতে চাইতেন না বলেও জানান তারা।
মৎস্যজীবী আশরাফুল বলেন, “নদীতে এখন আর আগের মতো মাছ পাওয়া যায় না। পেটের দায়ে শামুক মেরে বিক্রি করতে হচ্ছে। আগে নদীতে মাছ ধরে ভালোভাবেই সংসার চলত। এখন সারাদিন জাল ফেলেও তেমন মাছ পাওয়া যায় না। সরকার যদি নদী খনন করে এবং মাছের অভয়াশ্রম তৈরি করে দেয়, তাহলে আমরা আবার মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতে পারব।”
স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানান, শিব নদীর নাব্যতা ফিরিয়ে আনা গেলে নদীতে পানি ধারণক্ষমতা বাড়বে। একই সঙ্গে মাছের প্রজনন ও বিচরণক্ষেত্র তৈরি করা হলে মাছের উৎপাদনও বাড়তে পারে। এতে নদীনির্ভর মৎস্যজীবীদের হারানো জীবিকা কিছুটা হলেও ফিরে আসবে বলে তারা আশা করছেন।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নদীর বিভিন্ন অংশে পানি কমে যাওয়ায় মাছের স্বাভাবিক বিচরণ ও প্রজনন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে নদীর ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলো দিন দিন আরও অসহায় হয়ে পড়ছে। অনেকেই পেশা পরিবর্তনের কথা ভাবলেও অন্য কোনো কাজের সুযোগ না থাকায় শেষ পর্যন্ত নদী ও বিলের ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে।
এ অবস্থায় শিব নদীর দ্রুত খনন, অবৈধ দখলমুক্তকরণ, নদীর পরিবেশ রক্ষা এবং মাছের অভয়াশ্রম তৈরির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় মৎস্যজীবীরা। একই সঙ্গে নদী ও বিলের বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা খানের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তারা।
মৎস্যজীবীদের প্রত্যাশা, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কার্যকর উদ্যোগ নিলে একদিকে যেমন শিব নদীর নাব্যতা ও পরিবেশ ফিরে আসবে, অন্যদিকে নদীনির্ভর শত শত মানুষের জীবিকাতেও স্বস্তি ফিরবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd