মোঃ শাহজাহান বাশার
যে রঙে লেখা ইতিহাস, সে রঙেই আঁকা ক্যানভাস’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে রাজধানীর তেজগাঁও কলেজে দুই দিনব্যাপী ‘লাল জুলাই’ কর্মসূযেচি অনুষ্ঠিত হয়েছে। জুলাই অভ্যুত্থানের স্মরণে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা, গ্রাফিতি অঙ্কন, চিত্র প্রদর্শনী, মোমবাতি প্রজ্বলন ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শহীদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়।
গত ২ আগস্ট কর্মসূচির প্রথম দিনে শিক্ষার্থীরা ‘জুলাই গ্রাফিতি’ অঙ্কনের পাশাপাশি সন্ধ্যায় শহীদদের স্মরণে মোমবাতি প্রজ্বলন করেন। সোমবার সমাপনী দিনে অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা ও চিত্র প্রদর্শনী। অনুষ্ঠানে জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতি, আন্দোলনের তাৎপর্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে সেই ইতিহাস তুলে ধরার প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জুলাই অভ্যুত্থানে কারাবন্দী হওয়া তেজগাঁও কলেজের শিক্ষক ও গভর্নিং বডির সদস্য আ জ ম কামাল উদ্দিন, প্রফেশনাল সিএসসি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. আমিনুল হক, মনোবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. এরশাদ আলী রহমান, প্রাণিবিদ্যা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মো. আমীর হোসেন এবং বাংলা বিভাগের প্রভাষক মো. কামাল চৌধুরী।
এছাড়া উপস্থিত ছিলেন তেজগাঁও কলেজ শিবিরের সভাপতি নাজমুল হোসেন, ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি মো. আসিফ হোসাইন, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি শুভ হোসেন জিহাদ, তেজগাঁও কলেজ সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জান্নাতুন্নেছা বুশরা, ‘আলোর পাঠ’-এর আদনান ইসলাম রাতুল, ‘ইনকিলাব মঞ্চ’-এর সাদিকুল ইসলাম সাব্বির, ‘গ্রীন ভয়েস’-এর সভাপতি এহসানুল হক হৃদয় এবং ‘তাদের পাশে আমরা’ সংগঠনের সহ-সভাপতি ফজরুল আমিন।
অনুষ্ঠানে জুলাই আন্দোলনে আহত সাংবাদিক ইসমাইল সরদার এবং আহত শিক্ষার্থী এস এম আলবার অর্ক তাদের আন্দোলনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তারা আন্দোলনের নানা স্মৃতি ও সংগ্রামের কথা উপস্থিত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ভাগাভাগি করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তেজগাঁও কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ শামীমা ইয়াসমিনের উপস্থিত থাকার কথা ছিল। বিশেষ অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন গভর্নিং বডির শিক্ষক প্রতিনিধি ও ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ (প্রশাসনিক) মো. নুর নবী আল মাহমুদ এবং ভারপ্রাপ্ত উপাধ্যক্ষ (একাডেমিক) মোহাম্মদ রফিকুল আলম। তবে আয়োজকদের দাবি, শেষ মুহূর্তে অফিসিয়াল কারণ দেখিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষ (প্রশাসনিক) অনুষ্ঠানে অংশ নেননি। এছাড়া উপাধ্যক্ষ (একাডেমিক) উপস্থিত থাকার আশ্বাস দিলেও শেষ পর্যন্ত যোগ দেননি।
এ ঘটনায় উপস্থিত অনেক শিক্ষার্থীর মধ্যে অসন্তোষের সৃষ্টি হয়। তাদের ভাষ্য, জুলাই অভ্যুত্থানের স্মরণে আয়োজিত এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ কর্মসূচিতে কলেজ প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতি নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে।
আয়োজক শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘জুলাই আন্দোলনের সময় তেজগাঁও কলেজে ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে বিভিন্ন রাজনৈতিক ও অরাজনৈতিক সংগঠন এবং বিভিন্ন ক্লাব ঐক্যবদ্ধভাবে ভূমিকা রেখেছে। সেই ঐক্যের চেতনা ধরে রাখতেই আমরা দুই দিনব্যাপী “লাল জুলাই” আয়োজন করেছি।’
তারা আরও অভিযোগ করেন, প্রশাসনের এ অনুপস্থিতি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নানা শঙ্কা তৈরি হয়েছে। তবে এ বিষয়ে কলেজ প্রশাসনের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
দুই দিনের এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন সাখাওয়াত ফারহান, রাফসানুল হক কল্লন, মুহাম্মদ নিয়াজ মিয়া, মেসুত হিমেল, মুরসালিন খান, সোয়েব আহম্মেদ সিয়াম, ইনতেখান হোসেন রাফি, এস এ সাইম, ফারদিন ও তাবাসসুম।
কর্মসূচির সমাপনীতে শিক্ষার্থীরা বৈষম্য, কর্তৃত্ববাদ ও সব ধরনের নিপীড়নের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ থাকার শপথ নেন।