মোঃ শাহজাহান বাশার
কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ২ নং বাকশীমূল ইউনিয়ন পরিষদের ৮ নং ওয়ার্ডের নির্বাচিত সদস্য, খারেরা মুহুড়ী বাড়ির কৃতি সন্তান ফয়েজ আহমেদ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।
মঙ্গলবার ভোর রাত আনুমানিক ৩টা ৩০ মিনিটে কুমিল্লার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, সন্তান, আত্মীয়-স্বজনসহ অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী ও গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। তার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় নেমে আসে গভীর শোকের ছায়া।
ফয়েজ আহমেদ দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় জনগণের সুখে-দুঃখে পাশে ছিলেন। ওয়ার্ডবাসীর বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা সমাধান, সামাজিক বিরোধ নিষ্পত্তি এবং উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় ভূমিকার কারণে তিনি সাধারণ মানুষের কাছে ছিলেন আস্থাভাজন ব্যক্তি।
স্থানীয়রা জানান, তিনি ছিলেন বিনয়ী, সদালাপী ও দায়িত্বশীল একজন জনপ্রতিনিধি। দরিদ্র ও অসহায় মানুষের সহায়তায় এগিয়ে আসার মানসিকতা তাকে আলাদা মর্যাদা এনে দেয়।
বাদ আসর ফকিরবাজার কেন্দ্রীয় ঈদগাহ মাঠে তার জানাজা নামাজ অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় অংশ নেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার হাজার হাজার মানুষ। রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি, আলেম-ওলামা ও সাধারণ জনগণের উপস্থিতি প্রমাণ করে—তিনি ছিলেন সত্যিকারের জনমানুষের নেতা।
জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। বিদায়ের মুহূর্তে স্বজনদের আহাজারি ও সহকর্মীদের অশ্রুসিক্ত চোখে ফুটে ওঠে তার প্রতি গভীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা।
স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছেন। অনেকে বলেন, তার শূন্যতা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। এলাকার উন্নয়ন ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় তার অবদান দীর্ঘদিন স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
ফয়েজ আহমেদের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের নয়, পুরো ওয়ার্ডবাসীর জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। মানুষের হৃদয়ে তার কর্ম, সততা ও মানবিক আচরণ চিরকাল বেঁচে থাকবে।
আল্লাহ তায়ালা মরহুমকে জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করুন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে ধৈর্য ধারণের তাওফিক দান করুন—এমন প্রার্থনাই এখন সবার।