স্টাফ রিপোর্টার সেলিম রেজা।
হলুদ সাংবাদিকতা ও সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহার করে একটি ভুয়া সংগঠন গড়ে তোলার চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। অভিযোগ উঠেছে, সাংবাদিকতার আড়ালে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে নতুন করে সংগঠিত ও পুনর্বাসিত করার অপচেষ্টা চালানো হচ্ছে। একই সঙ্গে, নিবন্ধনে অনুমোদনহীন এই সংগঠনের কথিত 'নির্বাচন' ও পদ-পদবির প্রলোভন দেখিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে লাখ লাখ টাকা।
নিবন্ধনহীন সংগঠন ও তথাকথিত নির্বাচন
অনুসন্ধানে জানা গেছে, ‘বাংলাদেশ রিপোর্টার্স সোসাইটি’ নামক সংগঠনটির কোনো সরকারি বৈধ অনুমোদন বা রেজিস্ট্রেশন নেই। তা সত্ত্বেও ২০২৭-২৮-২৯ মেয়াদের কথিত নির্বাচনের নামে প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি ও পদ বাণিজ্যের মহোৎসব চলছে। জাতীয় প্রেস ক্লাবের মতো একটি ঐতিহ্যবাহী স্থান ব্যবহার করে কীভাবে এই ভূঁইফোড় সংগঠনটি কর্মসূচি বা নির্বাচনের অনুমতি পাচ্ছে, তা নিয়েও তীব্র প্রশ্ন ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
অশিক্ষিত ও বিতর্কিতদের পদ-পদবি বিতরণ
সংগঠনটির কর্মকাণ্ড ও পদপ্রার্থীদের অতীত পরিচয় বিশ্লেষণে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পাওয়া গেছে:
ফরিদ চিসতি (চেয়ারম্যান প্রার্থী): স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার গণ্ডি না পেরোনো ও লিখতে-পড়তে অক্ষম ফরিদ চিসতি পূর্বে পেশায় নাপিত ও গার্মেন্টস শ্রমিক ছিলেন। বর্তমানে তিনি গত 'জুলাই আন্দোলন/যুদ্ধ' সংক্রান্ত একাধিক মামলার আসামি। সাভার-আশুলিয়া অঞ্চলে ভুয়া সাংবাদিক তৈরির কারিগর হিসেবে পরিচিত এই ব্যক্তি এর আগে দৈনিক ইনকিলাবের ভুয়া পরিচয়পত্র ব্যবহার করে ধরা পড়েছিলেন। বিতর্কিত আওয়ামী লীগ নেতা মুরাদ জংগের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না। আশুলিয়ার হাজী মার্কেট এলাকায় তার নামে একটি বহুতল বাড়ি গড়ে তোলারও তথ্য মিলেছে।
মোঃ মাজেদুল ইসলাম (যুগ্ম মহাসচিব প্রার্থী): বঙ্গবন্ধু সৈনিক লীগের আশুলিয়া থানা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মাজেদুল ইসলাম নিজের নাম স্বাক্ষর করতে পারেন না বললেই চলে। অভিযোগ রয়েছে, ৫ই আগস্টের প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পর তিনি খোলস পাল্টে এই সংগঠনে যুক্ত হয়েছেন এবং অনিয়মের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ভারতে পাঠানোর কাজে জড়িত।
মোঃ মোশারফ হোসেন (কার্যনির্বাহী সদস্য প্রার্থী): পেশায় তৈরি পোশাক (গার্মেন্টস) শ্রমিক ও সাবেক শ্রমিক লীগ কর্মী মোশারফ হোসেনও নিজের নাম স্বাক্ষর করতে অক্ষম। অর্থ ও রাজনৈতিক স্বার্থের বিনিময়ে তাকে এই কার্যনির্বাহী সদস্য পদ দেওয়া হয়েছে।
ক্ষুব্ধ সচেতন ও পেশাদার সাংবাদিক সমাজ
স্থানীয় বাসিন্দা ও পেশাদার সাংবাদিকদের অভিযোগ, সাংবাদিকতার মতো একটি দায়িত্বশীল ও সম্মানজনক পেশাকে পুঁজি করে একদল প্রতারক চক্র ভুয়া পরিচয়ে সাধারণ মানুষ, বিভিন্ন ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠান থেকে নিয়মিত চাঁদা আদায় করছে। পেশাদার সাংবাদিকতার ন্যূনতম জ্ঞান না থাকা সত্ত্বেও অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য ব্যক্তিদের পদ-পদবি বিতরণ করা হচ্ছে, যা বস্তুনিষ্ঠ সাংবাদিকতার ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন করছে।
সাংবাদিক সমাজ ও সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে অনতিবিলম্বে এই ভুয়া সংগঠন, তথাকথিত নির্বাচন এবং এর সাথে জড়িত প্রতারকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।