মারুফ হাসান
ঢাকা জেলা প্রতিনিধি
একটি পরিচ্ছন্ন, সচেতন ও দায়িত্বশীল বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন নিয়ে ২০১৬ সালের ৩ জুন যাত্রা শুরু করে দেশের অন্যতম বৃহৎ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন বিডি ক্লিন। প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ ফরিদ উদ্দিন-এর নেতৃত্বে শুরু হওয়া এই উদ্যোগ আজ একটি জাতীয় সামাজিক আন্দোলনে রূপ নিয়েছে।
প্রতিষ্ঠার এক দশক পূর্তিতে, ২০২৬ সালের ৩ জুন পর্যন্ত সংগঠনটির ৫০ হাজারেরও বেশি সক্রিয় স্বেচ্ছাসেবী সদস্য দেশের উন্নয়ন ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। বর্তমানে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলাতেই বিডি ক্লিনের শাখা রয়েছে। নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান, বৃক্ষরোপণ, জনসচেতনতা কর্মসূচি, পরিবেশ রক্ষা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে সংগঠনটি।
বিডি ক্লিনের মূল লক্ষ্য শুধু ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার করা নয়; বরং মানুষের চিন্তাধারা ও অভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা। সংগঠনটি বিশ্বাস করে, পরিচ্ছন্ন বাংলাদেশ গড়তে হলে প্রতিটি নাগরিককে নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে হবে। সেই লক্ষ্যেই দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, পার্ক, পর্যটনকেন্দ্র, নদীর তীর, বাজার এবং জনসমাগমস্থলে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা হয়।
সংগঠনটির উদ্দেশ্য হলো বহির্বিশ্বের কাছে বাংলাদেশকে একটি পরিচ্ছন্ন রাষ্ট্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা এবং দেশের প্রতিটি নাগরিককে আদর্শ, দায়িত্বশীল ও সচেতন সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা।
বিডি ক্লিনের ঢাকা উওর আওতাধীন ৮ নং জোনের একজন সদস্য ইসরাত জাহান বলেন, "আমাদের মূল লক্ষ্য যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলে দেওয়ার অভ্যাস পরিবর্তন করা। মানুষ যদি ডাস্টবিন ব্যবহারে অভ্যস্ত হয় এবং নিজের চারপাশ পরিষ্কার রাখার দায়িত্ব নিজেই নেয়, তাহলে একটি পরিচ্ছন্ন, স্বাস্থ্যকর ও জীবাণুমুক্ত বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব।"
শুধু পরিচ্ছন্নতা অভিযান নয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং বিভিন্ন সচেতনতামূলক প্রচারণার মাধ্যমেও মানুষকে পরিবেশ রক্ষায় উদ্বুদ্ধ করছে বিডি ক্লিন। তাদের বিশ্বাস, সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণই পারে একটি সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য বাংলাদেশ গড়ে তুলতে।
এক দশকের এই যাত্রায় বিডি ক্লিন প্রমাণ করেছে, ইচ্ছাশক্তি, স্বেচ্ছাশ্রম এবং সামাজিক দায়বদ্ধতা থাকলে একটি ছোট উদ্যোগও জাতীয় আন্দোলনে পরিণত হতে পারে। পরিচ্ছন্নতার এই বার্তা ছড়িয়ে দিতে দেশের প্রতিটি প্রান্তে কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটির হাজারো স্বেচ্ছাস