
মোঃ শাহজাহান বাশার
দেশব্যাপী সাংবাদিকদের ওপর ক্রমবর্ধমান নির্যাতন প্রতিরোধে নতুন করে সংগঠিত উদ্যোগ হিসেবে “সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি, বাংলাদেশ”-এর কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল গঠন প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সভা শেষে সংগঠনের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি হিসেবে মনোনীত হয়েছেন বাংলা পোর্টালের সম্পাদক এবং বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর। অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন এটিএন বাংলার বিশেষ প্রতিনিধি আলী আজগর ইমন।
ভার্চুয়াল এ সভায় দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন। বক্তারা সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, পেশাগত স্বাধীনতা রক্ষা এবং নির্যাতনের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সংগঠনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, খুব শিগগিরই ১৫১ সদস্যবিশিষ্ট একটি পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হবে। এ কমিটিতে শুধুমাত্র সাংবাদিকরাই নয়, বরং সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে থাকবেন আইনজীবী, ইমাম, পুরোহিত, চিকিৎসক, শিক্ষক, অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা, ব্যবসায়ী, নারী নেত্রী, ছাত্রনেতা, এনজিও প্রতিনিধি, আইটি বিশেষজ্ঞ, শ্রমিক নেতা এবং মানবাধিকার কর্মীরা।
সংগঠনের নেতারা মনে করেন, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ একটি সামগ্রিক সামাজিক দায়িত্ব। তাই বহুমুখী অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে একটি শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হলে এ লক্ষ্য অর্জন সহজ হবে।
উল্লেখ্য, ২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় দেশে সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেলে এই সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। সেই সময় থেকে বিভিন্ন জেলায় শাখা কমিটি গঠনের মাধ্যমে সংগঠনটি মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম চালিয়ে আসছে।
বর্তমানে সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করতে কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে কয়েক দফা ভার্চুয়াল বৈঠকে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে এবং সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মনোনয়নের মাধ্যমে পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
সংগঠনের নেতারা আশা প্রকাশ করেছেন, সাংবাদিক নির্যাতনমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এ কমান্ড কাউন্সিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে এবং দেশের গণমাধ্যম কর্মীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।