মোঃ মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারী
ভোলা জেলা প্রতিনিধি:
সরকারি নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে এবং অভিভাবকদের একপ্রকার অন্ধকারে রেখেই ভোলা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম বন্ধ রাখার অভিযোগ উঠেছে। এসএসসি ব্যবহারিক পরীক্ষার অজুহাত এবং আঞ্চলিক শিক্ষা কর্মকর্তার স্পষ্ট নির্দেশনা অমান্য করায় চরম ভোগান্তি ও একাডেমিক অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বিদ্যালয়টির হাজারো সাধারণ শিক্ষার্থী।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বিদ্যালয়ের রুটিনমাফিক ক্লাস চালু রেখেই এসএসসি ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়ার সরকারি নির্দেশনা ছিল। প্রয়োজনে পরীক্ষার সময় কিছুটা আগে-পিছে করার সুযোগ থাকলেও বিদ্যালয় প্রশাসন তা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে সকালের দিকেই ব্যবহারিক পরীক্ষার আয়োজন করে। এর ফলে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।
এ বিষয়ে বরিশাল অঞ্চলের উপ-পরিচালক জাহাঙ্গীর আলম বিদ্যালয়টিতে যথাযথ নিয়ম মেনে ক্লাস চলমান রাখার সুস্পষ্ট নির্দেশনা দিয়েছিলেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় প্রশাসন ও ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সেই নির্দেশনাকে তোয়াক্কা করেনি স্কুল কর্তৃপক্ষ।
পবিত্র ঈদুল আজহার দীর্ঘ ছুটির পর গত ৭ জুন বিদ্যালয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে খোলার কথা ছিল। কর্তৃপক্ষ নথিপত্রে ও অভিভাবকদের মৌখিকভাবে বিদ্যালয় খোলা থাকার কথা জানালেও, বাস্তবে কোনো ক্লাস নেওয়া হয়নি। ফলে টানা দুই দিন ধরে শিক্ষার্থীরা বিদ্যালয়ে এসেও কোনো পাঠদান ছাড়াই ফিরে গেছে। গুরুত্বপূর্ণ ক্লাস থেকে বঞ্চিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের মাঝে তীব্র হতাশা দেখা দিয়েছে।
আগামী ২৮ জুন থেকে বিদ্যালয়টিতে শুরু হতে যাচ্ছে শিক্ষার্থীদের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা। পরীক্ষার মাত্র কয়েকদিন আগে এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে প্রায় ৭ দিন ক্লাস বন্ধ থাকায় পাঠ্যসূচি (সিলেবাস) শেষ করা নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় পড়েছেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
ক্ষুব্ধ অভিভাবকরা জানান, এই নামী সরকারি স্কুলটি অধিকাংশ সময়েই কোনো না কোনো ছুটির অজুহাতে বন্ধ থাকে। এখন পরীক্ষার আগমুহূর্তে প্রশাসনের এমন অগোছালো ও দায়িত্বজ্ঞানহীন কার্যকলাপে সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে তারা শঙ্কিত।
সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে কেন বিদ্যালয় বন্ধ রাখা হলো—এ বিষয়ে জানতে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এ. কে. এম. ছালেহ উদ্দিন-এর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। ফলে তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এসএসসি ব্যবহারিক পরীক্ষা নেওয়ার জন্য কোনো নির্দিষ্ট সময় আমরা বাধ্যতামূলক করিনি। আমরা বোর্ড থেকে ২১ মে থেকেই সময় উন্মুক্ত করে দিয়েছি, যাতে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের সুবিধাজনক দিনে পরীক্ষা নিতে পারে। পরীক্ষার অজুহাতে কোনো বিদ্যালয় এক সপ্তাহ ক্লাস বন্ধ রাখতে পারে না। এই বিদ্যালয়টি কেন এমন করেছে, তা আমার জানা নেই।"
মো. জাহাঙ্গীর আলম (আঞ্চলিক উপপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ)
আমি ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটি বিদ্যালয়ে ফোন করে নির্দেশনা দিয়েছি, যেন পরীক্ষার সময় আগে-পিছে করে হলেও নিয়মিত ক্লাস চালু রাখা হয়। ভোলা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন বন্ধ রাখা হয়েছে, তা আপনাদের (সাংবাদিকদের) মাধ্যমেই প্রথম জানলাম। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
সরকারি আদেশ অমান্য করা, অভিভাবকদের বিভ্রান্ত করা এবং শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলার এই ঘটনায় জেলা জুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। সচেতন মহল ও সাধারণ অভিভাবকরা অবিলম্বে এই অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
মোঃ মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারী
ভোলা জেলা প্রতিনিধি
০১৬১৬৬৬৭৪৯৬