জাহিদ হাসান
স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
ঢাকার কোলাহলপূর্ণ সদরঘাটে দীর্ঘদিন ধরেই কুলিদের নীরব কিন্তু নিয়মিত হয়রানির ভোগান্তি চলমান। যাত্রীদের অভিযোগ, প্রবাসী মনে করলেই লাগেজ দেখলেই ২ থেকে ৫ হাজার টাকা দাবি করা হয়; কোনো মালামাল থাকলেই বড় অংকের টাকা আদায় করা হয়। এ ধরনের জোরপূর্বক চাঁদাবাজি ও হয়রানি নৌপথে মানসম্মত যাতায়াতকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে—অনেকে এখন সদরঘাট এড়িয়ে যাতায়াত করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও যাত্রীরা বলছেন, “কখনো কখনো লাগেজ নিতে গেলে কুলিরা প্রথমেই টাকা দাবি করে; যদি না দিলে ভড়কে বলা হয়—তুমি কী প্রবাসী না? ভেবে নে।’” একাধিক যাত্রী জানিয়েছেন, এই আচরণে মানসিক হেনস্থা ছাড়াও আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন তারা।

এই অবস্থার বিরুদ্ধে ‘নিরাপদ নৌপথ আন্দোলন’ নামে এক স্থানীয় সংগঠন এবার মাঠে নেমে ছয় দফা বাস্তব দাবি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিবাদ ও কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সংগঠনের মুখপাত্র সাংবাদিক তকি খান বলেন, “সদরঘাটে প্রতিদিন ন্যায্য যাত্রীদের কাছ থেকে জোর করে টাকা আদায় করা হচ্ছে। এটা গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা নির্ধারিত নিয়মনীতি অনুযায়ী নৌপথকে নিরাপদ করতে ও শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিতেই এই চার্জিদার সংগ্রহ করছি।”
‘নিরাপদ নৌপথ’ আন্দোলনের ছয় দফা দাবি:
১. নৌপথে যাত্রী হয়রানি ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর আইন ও শাস্তি নিশ্চিত করা।
২. নির্ধারিত ওজন ছাড়িয়ে মালামাল নিলে রিসিভ ও টোকেন বাধ্যতামূলক রাখা; ভাড়ার বাইরে কোনো টাকা আদায় বন্ধ।
৩. যাত্রী সম্মতি ছাড়া মালামাল বহনে অনুপ্রবেশ নিষিদ্ধ ও জোরপূর্বক সহায়তা নেওয়া বন্ধ।
৪. লঞ্চে অনুমতি ছাড়া বহিরাগত প্রবেশ সীমাবদ্ধ করা—কর্তৃপক্ষকে দায়িত্বশীল করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
৫. লঞ্চঘাটে যাত্রী সহায়তা বুথ ও ২৪ ঘণ্টার অভিযোগ হটলাইন চালু করা।
৬. যাত্রী হয়রানির দায় লঞ্চ মালিক ও কর্তৃপক্ষকেই বহন করাতে হবে; অপরাধী মালিক/অপারেটরকে শাস্তি প্রদান।

শুধু অভিযোগেই সীমাবদ্ধ না থেকে স্থানীয়রা চাইছেন—কর্তৃপক্ষ দ্রুত ও দৃঢ় পদক্ষেপ নিক। এক ব্যবসায়ী বলেন, “যদি সরকারিভাবে নিয়ম না মেনে টাকা আদায় প্রতিরোধ না করা হয়, তাহলে এখানে যাত্রী কমে যাবে; ভোগান্তি বেড়ে যাবে।”
নিরাপত্তা তৎপরতা এবং যাত্রীদের অভিযোগ শোনার জন্য দাবি জানিয়ে স্থানীয়দের একাংশ প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছেন। তারা চান— লঞ্চ অপারেটর, ঘাট ম্যানেজার ও স্থানীয় পুলিশ মিলে যৌথভাবে নিয়ম-নীতি কঠোরভাবে ধার্য করুন এবং কুলি-দলগুলোর লাগাম টানুন।
এ প্রসঙ্গে জেলা/ঘাট কর্তৃপক্ষের মন্তব্য নেওয়ার প্রয়াস চলছে—তবে এখনও তা পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পেলে প্রতিবেদন পুনরায় আপডেট করা হবে।