• মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০১:৪৫ পূর্বাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
সাংবাদিক সুজন মন্ডলের ওপর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে শ্রীপুরে সাংবাদিকদের মানববন্ধন মধ্যনগরের ইউএনও উজ্জ্বল রায়ের বদলিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আক্ষেপ তানোরে তুলার গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম ফায়ার সার্ভিস আলোচনার শীর্ষে মেম্বার প্রার্থী সৈয়দ মোঃ সাইফুল ইসলাম ধর্মপাশায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, বিভিন্ন অপরাধে ৫ জনকে জরিমানা তানোরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত: র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মধ্যনগর উপজেলাবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন সেলিম মুন্না ঈদ উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও দোয়া চাইলেন ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী সৈয়দ মোঃ সাইফুল ইসলাম বাড়ি নির্মাণে চাঁদাবাজির অভিযোগে ব্রাহ্মণপাড়ায় বিআরডিবি চেয়ারম্যান গ্রেপ্তার জাপানে খাদ্য রপ্তানির উদ্যোগ—আন্তর্জাতিক মানে খাদ্য নিরাপত্তা গড়তে বড় প্রকল্প

রূপালী ব্যাংকের অ্যাকাউন্ট থেকে রহস্যজনক লেনদেন, বিপাকে দৌলতখানের এক গ্রাহক।

Reporter Name / ৫৫ Time View
Update : শুক্রবার, ৬ মার্চ, ২০২৬

মো, মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারী
দৌলতখান (ভোলা) প্রতিনিধি:

ভোলার দৌলতখানে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংক–এর একটি শাখায় অদ্ভুত এক লেনদেনের ঘটনায় বিপাকে পড়েছেন এক গ্রাহক। বেতনের টাকা তুলতে গিয়ে তিনি দেখেন, তার অ্যাকাউন্টে জমা থাকা অর্থ মোবাইল অ্যাপসের মাধ্যমে অন্য একটি ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর হয়ে গেছে। অথচ ওই গ্রাহকের দাবি—তিনি কখনো মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপস বা এটিএম কার্ড ব্যবহারই করেননি। অভিযোগ করার পরও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান মেলেনি।
ভুক্তভোগী গোলাম মাওলা ভোলার দৌলতখান উপজেলার হাজিপুর ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার প্রভাষক। তিনি জানান, নিয়মিত চেকের মাধ্যমে ব্যাংক থেকে বেতনের টাকা তুলে থাকেন। গত ২ মার্চ টাকা তুলতে গিয়ে তিনি জানতে পারেন, তার অ্যাকাউন্টে থাকা টাকা অন্য একটি ব্যাংকের হিসাবে স্থানান্তর হয়ে গেছে।
গোলাম মাওলা বলেন,
“আমি কখনো মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করিনি, এমনকি এটিএম কার্ডও নেই। বাসার কাছে ব্যাংক হওয়ায় চেকের মাধ্যমে টাকা তুলি। কিন্তু ২ মার্চ টাকা তুলতে গিয়ে দেখি আমার অ্যাকাউন্টে টাকা নেই।”
ব্যাংক স্টেটমেন্ট অনুযায়ী দেখা যায়, গত ১০ ফেব্রুয়ারি তার ৫৫১২০১১***১১০ নম্বর হিসাবে জানুয়ারি মাসের বেতন বাবদ ২৬ হাজার ৭৬০ টাকা জমা হয়। পরে ১৫ ফেব্রুয়ারি পুবালী ব্যাংক–এর গোপালগঞ্জ শাখার অধীন একটি এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবে বিএফটিএন (BFTN) পদ্ধতিতে প্রথমে ৫ হাজার টাকা এবং একই দিনে আরও ২১ হাজার ৫০০ টাকা স্থানান্তর করা হয়।
এরপর ১৬ ফেব্রুয়ারি তার অ্যাকাউন্ট থেকে পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী এলাকার এক স্টেশনারি ব্যবসায়ীর মোবাইল নম্বরে ৫০ টাকা রিচার্জ করা হয়।
ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে হারুন অর রশিদ নামে এক ব্যক্তি ফোন রিসিভ করে জানান, তিনি প্রায়ই দোকানে গিয়ে মোবাইলে টাকা রিচার্জ করেন। তবে কখন তার মোবাইলে এই টাকা ঢুকেছে, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না।
এ বিষয়ে দৌলতখান শাখার ব্যবস্থাপক নেছার উদ্দিন জানান, গোলাম মাওলা নামে তাদের শাখায় একটি টিচার্স সেভিংস অ্যাকাউন্ট রয়েছে। গত ২ মার্চ তিনি টাকা তুলতে এসে অ্যাকাউন্টে টাকা না থাকায় বিষয়টি সামনে আসে। পরে স্টেটমেন্ট পর্যালোচনা করে দেখা যায়, রূপালী ব্যাংকের মোবাইল অ্যাপস ব্যবহার করে বিএফটিএনের মাধ্যমে টাকা অন্য অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করা হয়েছে।
তিনি বলেন,
“গ্রাহক আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি প্রধান কার্যালয়ের আইটি বিভাগকে জানানো হয়েছে। তারা জানিয়েছে, গ্রাহকের অ্যাপস থেকেই লেনদেন হয়েছে এবং প্রতিটি লেনদেনের সময় তার মোবাইলে বার্তা পাঠানো হয়েছে। আমাদের শাখা থেকে এই টাকা উদ্ধার করা সম্ভব নয়।”
শাখা সূত্রে জানা যায়, পুবালী ব্যাংকের গোপালগঞ্জ শাখার অধীন একটি এজেন্ট ব্যাংকিং অ্যাকাউন্ট—যার মালিক বৃষ্টি ঘোষ—সেই অ্যাকাউন্টেই টাকা দুটি স্থানান্তর হয়েছে। সংশ্লিষ্ট শাখার কর্মকর্তা কাজী মৃণাল মাহমুদ জানান, বৃষ্টি ঘোষের ১৯০২১০১১৬৭৭৪৪ নম্বর অ্যাকাউন্টে প্রায়ই বিভিন্ন উৎস থেকে টাকা জমা হয় এবং তিনি সাধারণত এটিএমের মাধ্যমে টাকা উত্তোলন করেন।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বৃষ্টি ঘোষ জানান, তার অ্যাকাউন্টে প্রায়ই টাকা আসে এবং কিছুক্ষণ পর আবার অ্যাকাউন্ট খালি হয়ে যায়।
তবে গোলাম মাওলার দাবি, জানুয়ারি মাসে বেতন জমার সময় তিনি মোবাইলে বার্তা পেলেও পরবর্তী তিন দফা লেনদেনের সময় কোনো এসএমএস পাননি।
রূপালী ব্যাংকের আইটি বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, এ ধরনের অভিযোগ প্রায়ই পাওয়া যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায় গ্রাহক অনলাইনে কোনো লিংকে ক্লিক করে বা অসতর্কতার কারণে মোবাইলের নিয়ন্ত্রণ প্রতারক চক্রের হাতে তুলে দেন। তখন প্রতারকরা মোবাইলের তথ্য ব্যবহার করে লেনদেন সম্পন্ন করে।
তিনি আরও বলেন, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর অ্যাপস নিরাপত্তা তুলনামূলক শক্তিশালী হলেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর প্রযুক্তিগত কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে। তবে গ্রাহকদেরও এ বিষয়ে আরও সচেতন হওয়া প্রয়োজন।
এ ঘটনায় গোলাম মাওলা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। তার প্রশ্ন—যে অ্যাপস তিনি কখনো ব্যবহারই করেননি, সেই অ্যাপস থেকেই কীভাবে তার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা স্থানান্তর হলো—এর উত্তর এখনো মেলেনি।

 

মো, মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারী
দৌলতখান ভোলা
০১৬১৬৬৬৭৪৯৬


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd