মোঃ শাহজাহান বাশার
দীর্ঘ রাতব্যাপী উদ্বেগ ও উত্তেজনার পর অবশেষে শর্তসাপেক্ষে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। এই ঘোষণা পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম হ্রাস পেতে শুরু করেছে, যা বিশ্ব অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধবিরতি তখনই কার্যকর হবে যখন ইরান আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য ‘সম্পূর্ণ ও নিরাপদভাবে’ হরমুজ প্রণালি খুলে দিবে। তিনি আরও বলেন, এটি বিশ্ববাজারে স্থিতিশীলতা এবং নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
এই যুদ্ধবিরতি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী ভূমিকা পালন করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ। পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের শর্ত মেনে ইরান হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে রাজি হয়েছে, যা সঙ্গে সঙ্গে যুদ্ধবিরতিকে কার্যকর করবে।
শাহবাজ শরীফ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বলেছেন,
“আমি অত্যন্ত বিনয়ের সঙ্গে ঘোষণা করছি, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং তাদের মিত্ররা লেবাননসহ সর্বত্র যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে।”
তিনি আরও যোগ করেছেন,
“উভয় দেশ যে বিচক্ষণতা ও দূরদর্শিতা প্রদর্শন করেছে, আমি তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানাই। এই উচ্চপর্যায়ের মধ্যস্থতায় দুই পক্ষই অত্যন্ত গঠনমূলকভাবে শান্তি ও স্থিতিশীলতার পক্ষে কাজ করেছে।”
দুই পক্ষের মধ্যে ‘বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য একটি চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছাতে আরও আলোচনার জন্য’ আগামী ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে একটি বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এই বৈঠকে উভয়পক্ষের প্রতিনিধি দল অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ।
বিশ্ববাজারে তেলের দাম হ্রাস পাওয়া, হরমুজ প্রণালির নিরাপদ চলাচল এবং দুই প্রধান শক্তির মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতির ঘোষণা আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে একটি বড় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি শান্তি এবং স্থিতিশীলতার পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ।