মোঃ শাহজাহান বাশার
ভালোবাসা ও হেকমতের মাধ্যমে ইসলামের প্রকৃত বাণী প্রচারের আহ্বান-শাহ্জাদা সাইয়্যিদ মাশুক-এ-মইনুদ্দীন আল হাসানী
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক আন্তর্জাতিক তাসাউফ কনফারেন্স। সোমবার (৮ জুন ২০২৬) আয়োজিত এ সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শাহ্জাদা সাইয়্যিদ মাশুক-এ-মইনুদ্দীন আল হাসানী বলেন, ভালোবাসা, প্রজ্ঞা ও হেকমতের মাধ্যমে ইসলামের প্রকৃত বাণী মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে হবে।
তিনি বলেন, “জোর করে কিছু অর্জন করা সম্ভব নয়। ধৈর্যের সঙ্গে মানুষকে বোঝাতে হবে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের মতো অঞ্চলে ইসলাম প্রচারের ক্ষেত্রে আমাদের আরও আন্তরিক ও সময়োপযোগী হতে হবে। একবিংশ শতাব্দীর তরুণ প্রজন্মের জীবনধারা ও মানসিকতা বুঝে তাদের কাছে ইসলামের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে।”
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান সময়ে অনেক তরুণ হতাশা ও বিভ্রান্তির কারণে বিপথগামী হচ্ছে। পারিবারিক বন্ধন দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং নৈতিক অবক্ষয়ের কারণে সমাজে অপরাধও বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে পিতা-মাতাকে সন্তানদের প্রতি আরও যত্নশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সন্তানদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে হবে। একইসঙ্গে সন্তানদেরও পরিবার, পিতা-মাতা ও সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।
তাসাউফের গুরুত্ব তুলে ধরে শাহ্জাদা সাইয়্যিদ মাশুক-এ-মইনুদ্দীন আল হাসানী বলেন, “তাসাউফ হলো আত্মশুদ্ধির পথ। আত্মার পরিশুদ্ধির মাধ্যমে মহান আল্লাহ তাআলা ও তাঁর প্রিয় হাবিব হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নৈকট্য অর্জন করা সম্ভব। তাসাউফ মানুষের মধ্যে মানবতা, উদারতা, নৈতিকতা, প্রেম, পরমতসহিষ্ণুতা ও সহানুভূতির গুণাবলি জাগ্রত করে। এসব গুণ মানুষকে সাধারণ থেকে আলোকিত মানুষে পরিণত করে।”
তিনি তাঁর বক্তব্যে মাইজভাণ্ডারী তরিকার প্রতিষ্ঠাতা হযরত শাহ্সুফি সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী-এর ইসলাম প্রচারে অবিস্মরণীয় অবদানের কথা স্মরণ করেন। পাশাপাশি মাইজভাণ্ডার দরবার শরিফের বর্তমান ইমাম ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী-এর নেতৃত্বে পরিচালিত বিভিন্ন ধর্মীয়, সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমের কথাও তুলে ধরেন।
সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ও আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. মুফতি সৈয়দ আনসারুল করিম আযহারী, আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত, যুক্তরাষ্ট্র-এর মহাসচিব আলহাজ মোহাম্মদ সালিম উদ্দিন এবং আজমাইন আসরার মাইজভাণ্ডারী।
বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে ধর্মীয় সহনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ এবং নৈতিক শিক্ষার প্রসারে তাসাউফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। তারা শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবকল্যাণে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা তুলে ধরতে বিশ্বব্যাপী সুফিবাদের ইতিবাচক চর্চা সম্প্রসারণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকে আগত প্রবাসী বাংলাদেশি, ইসলামি চিন্তাবিদ, গবেষক, তরুণ প্রতিনিধি ও মাইজভাণ্ডারী অনুসারীরা অংশগ্রহণ করেন। অনুষ্ঠানের শেষে বিশ্ব শান্তি, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং মানবকল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।