রাসেল শেখ সুমন
ফকিরহাট উপজেলা প্রতিনিধি
মংলায় কোস্টগার্ড ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে এক ভয়াবহ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের একপর্যায়ে বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কোস্টগার্ডের একটি জাহাজে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় কোস্টগার্ড সদস্য ও স্থানীয় বাসিন্দা সহ উভয়পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন।
ঘটনার সূত্রপাত
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে জানা যায়, আজ দুপুরে মংলার পশুর নদী সংলগ্ন কোস্টগার্ড জেটি ও আশপাশের এলাকায় একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে কোস্টগার্ড সদস্যদের সাথে কয়েকজন স্থানীয় যুবকের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বিষয়টি হাতাহাতি ও পরবর্তীতে পূর্ণাঙ্গ সংঘর্ষে রূপ নেয়।
মুহূর্তের মধ্যে এই খবর ছড়িয়ে পড়লে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কোস্টগার্ডের ওপর চড়াও হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কোস্টগার্ড সদস্যরা ফাঁকা গুলি ও লাঠিচার্জ করে বলে স্থানীয়রা দাবি করেন।
জাহাজে হামলা ও ভাঙচুর
সংঘর্ষের একপর্যায়ে এলাকাবাসী আরও সংগঠিত হয়ে নদীর ঘাটে নোঙর করে রাখা কোস্টগার্ডের একটি জাহাজে আকস্মিক হামলা চালায়। হামলাকারীরা জাহাজের জানালার কাচ ও বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর করে। এ সময় ঘাটে থাকা অন্যান্য নৌযান ও সরকারি সম্পত্তিতেও ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
প্রত্যক্ষদর্শীর বয়ান:
"হঠাৎ করেই পুরো এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। চারপাশ থেকে মানুষ এসে নদীর পাড়ে জড়ো হয়। কিছু বুঝে ওঠার আগেই জাহাজের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর শুরু হয়। পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছিল।"
বর্তমান পরিস্থিতি
ঘটনার পর পরই মংলা থানা পুলিশ ও কোস্টগার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অতিরিক্ত ফোর্স নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যৌথ তৎপরতায় বিকেল নাগাদ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। বর্তমানে মংলা পোর্ট ও কোস্টগার্ড সদর দফতর সংলগ্ন এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
কোস্টগার্ড ও স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে তদন্ত শুরু হয়েছে। তবে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মামলা বা কাউকে আটকের তথ্য নিশ্চিত করা হয়নি।