পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধিঃ
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এক হতদরিদ্র ঝালমুড়ি বিক্রেতার প্রায় দেড় শতাধিক ফলন্ত কলাগাছ ও পেঁপে গাছ কেটে সাবাড় করেছে প্রতিপক্ষরা। গত বুধবার (২৯ এপ্রিল) উপজেলার গৌরীপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে এই নৃশংস ঘটনাটি ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ঝালমুড়ি বিক্রেতা মো. শাহ আলম হাওলাদারের ছেলে গত মঙ্গলবার প্রতিবেশী চাচা মো. ছালাম হাওলাদারের নারিকেল গাছের চারটি ডেগা কেটে ফেলে। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়রা ছালাম হাওলাদারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার আশ্বাস দিলেও তিনি তা মানেননি। শত্রুতা মেটাতে পরদিন বুধবার ছালাম হাওলাদার, তার ছেলে মিরাজ হাওলাদার ও রিয়াজ হাওলাদার মিলে শাহ আলমের দুটি প্লটে থাকা ১২৫টি ফলন্ত কলাগাছ এবং অসংখ্য পেঁপে গাছ কেটে ফেলে।
শনিবার বিকেলে সরেজমিনে গেলে ইউপি সদস্য সোহেল হাওলাদারের ভাই মো. সোহাগ, স্থানীয় বাসিন্দা মাহদি হাসান ও ইয়াছিনসহ অনেকে জানান, গাছ কাটার সময় তারা বাঁধা দিতে গেলে প্রতিপক্ষরা দেশীয় অস্ত্র (দা) নিয়ে তেড়ে আসে। ফলে ভয়ে কেউ এগিয়ে যাওয়ার সাহস পায়নি। এ বিষয়ে অভিযুক্তদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের পাওয়া যায়নি।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে শাহ আলম হাওলাদার বলেন, ঝালমুড়ি বিক্রি করে জমানো অর্থ দিয়ে কলা ক্ষেত করেছিলাম। কিছু দিন পরই প্রায় লক্ষাধিক টাকার কলা বিক্রি করতে পারতাম। সামান্য একটা ঘটনায় তারা আমার সব স্বপ্ন শেষ করে দিল।
ভুক্তভোগী শাহ আলম এই অমানবিক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়ে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।