মোঃ হাফিজুর রহমান বাগেরহাট জেলা প্রতিনিধি
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলার ঐতিহ্যবাহী খানজাহানপুর মোহাম্মাদিয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসায় ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষার্থীদের বিদায় উপলক্ষে এক বর্ণাঢ্য, আবেগঘন ও স্মরণীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (০৭ এপ্রিল ২০২৬) সকাল থেকে দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়, যা শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকদের মিলনমেলায় পরিণত হয়।
অনুষ্ঠানের সূচনা হয় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে। নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুশফিকুর রহমান সরদার তিলাওয়াত পরিবেশন করেন। এরপর ইসলামিক সংগীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে সৃষ্টি হয় এক আধ্যাত্মিক ও প্রশান্তিময় পরিবেশ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আবু বক্কর সিদ্দিক। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “দাখিল পরীক্ষা শুধুমাত্র একটি একাডেমিক ধাপ নয়, এটি জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়। এই পথ পেরিয়ে শিক্ষার্থীরা নতুন জীবনের পথে যাত্রা শুরু করবে। সফল হতে হলে জ্ঞান অর্জনের পাশাপাশি সততা, নৈতিকতা ও মানবিক গুণাবলির চর্চা অপরিহার্য।”
তিনি আরও বলেন, “বিদায় মানেই বিচ্ছেদ নয়, বরং নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন। আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের আলেম, শিক্ষাবিদ, চিকিৎসক, প্রকৌশলী ও দেশনেতা—এই বিশ্বাস আমাদের রয়েছে।”
শিক্ষকমণ্ডলীর পক্ষ থেকে প্রভাষক এস এম খালিদ হাসান (আইসিটি) বলেন, “বর্তমান বিশ্ব প্রযুক্তিনির্ভর। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার করে নিজেদের দক্ষ করে তুলতে হবে, তবে নৈতিকতার সঙ্গে কখনো আপস করা যাবে না।”
সহ-অধ্যাপক মোঃ আবু সাঈদ বলেন, “একজন ভালো মানুষ হওয়াই জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য। তোমরা যেখানে যাবে, এই প্রতিষ্ঠানের সুনাম বহন করবে।”
অপরদিকে সহ-অধ্যাপক মোঃ আইয়ুব আলী বলেন, “শেখার কোনো শেষ নেই। শিক্ষাজীবনের এই ধাপ পেরিয়ে তোমরা নতুন জ্ঞান অর্জনের পথে এগিয়ে যাবে।”
দাখিল ২০২৬ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে মারিয়াম খাতুন ও লামিয়া খাতুন আবেগঘন বক্তব্য প্রদান করেন। তারা বলেন, “এই প্রতিষ্ঠান আমাদের শুধু পাঠ্যজ্ঞানই দেয়নি, দিয়েছে জীবন গড়ার মূল্যবোধ। শিক্ষকদের স্নেহ ও দিকনির্দেশনা আমরা সারাজীবন স্মরণে রাখব।”
অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে আরিফুল ইসলাম ও দশম শ্রেণির মারিয়াম খাতুন বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে শুভকামনা জানিয়ে বলেন, “আপনারা আমাদের অনুপ্রেরণা। ভবিষ্যতে সফল হয়ে আমাদের জন্য উদাহরণ হয়ে থাকবেন—এই প্রত্যাশা করি।”
অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে কোরআন তিলাওয়াত ও ইসলামী সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়। এতে শিক্ষার্থীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রতিযোগিতা শেষে বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা বিদায়ী পরীক্ষার্থীদের হাতে ফুল ও উপহার তুলে দিয়ে ভালোবাসা ও শুভকামনা জানান।
শেষ পর্বে সহ-অধ্যাপক মোঃ আবু সাঈদ দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ, সুস্বাস্থ্য ও সফলতা কামনা করেন। দোয়া শেষে তাবারক বিতরণের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।
পুরো অনুষ্ঠানজুড়ে ছিল আবেগ, ভালোবাসা ও স্মৃতির মিশেল। কোথাও হাসি, কোথাও অশ্রু—সব মিলিয়ে এক অনন্য অনুভূতির সৃষ্টি হয়। এ বিদায় অনুষ্ঠান শিক্ষার্থীদের জীবনে এক স্মরণীয় অধ্যায় হয়ে থাকবে, যা তাদের ভবিষ্যৎ পথচলায় প্রেরণা