আজিজুল গাজী
জেলা প্রতিনিধি, বাগেরহাট
বাগেরহাটের ফকিরহাট উপজেলায় শারদীয়া দুর্গাপূজা ২০২৫ উপলক্ষে আনসার ও ভিডিপি সদস্যদের নিরাপত্তা ডিউটি ঘিরে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে ২ অক্টোবর পর্যন্ত উপজেলার মোট ৬৮টি পূজা মণ্ডপে আনসার সদস্য মোতায়েন করা হলেও, অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে অবৈধ অর্থ লেনদেন, ভুয়া সার্টিফিকেটে ডিউটি প্রদান ও সরকারি অর্থ আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য।
অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্টরা:
আশালতা মন্ডল – উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা, ফকিরহাট
কাজী করিব উদ্দিন – উপজেলা প্রশিক্ষক
শেখ আব্দুল হামিদ – আনসার সদস্য
মোঃ জয়নাল শেখ
অভিযোগের মূল বিষয়সমূহ:
ঘুষ বাণিজ্য: ডিউটির তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করতে আনসার সদস্যদের কাছ থেকে ৪০০–৫০০ টাকা করে ঘুষ নেওয়া হয়েছে।
বিনা সার্টিফিকেট ডিউটি: যাদের কোনো বৈধ সার্টিফিকেট নেই, তারাও টাকা দিয়ে ডিউটি পেয়েছেন।
সার্টিফিকেটধারীদের বাদ: বৈধ সার্টিফিকেটধারী অনেক সদস্যকে একদিন ডিউটির পর বাদ দেওয়া হয়েছে।
বডি সেন্স ডিউটি কেলেঙ্কারি: কিছু সদস্যের নামে ডিউটি দেখানো হয়েছে অথচ তারা নিজেরাই জানেন না।
সার্টিফিকেট বিক্রি: ডিউটির নামে অবৈধভাবে সার্টিফিকেট বিক্রির প্রমাণ পাওয়া গেছে।
অনুসন্ধানে প্রাপ্ত তথ্য:
প্রায় প্রতিটি পূজা মণ্ডপে নিয়োজিত আনসার সদস্যদের মধ্যে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ মিলে। সরকারি অর্থ আত্মসাৎ এবং ভুয়া ডিউটি তালিকা প্রণয়ন এখানে নিয়মিত প্রক্রিয়ায় পরিণত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার দৃষ্টি আকর্ষণ করার পরও উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা আশালতা মন্ডল তালিকা পরিবর্তনের নামে নতুন করে দুর্নীতি করেছেন।
জনমত:
স্থানীয়দের অভিযোগ— এই দুর্নীতি বন্ধ না হলে প্রতিনিয়ত ঘুষ ও স্বেচ্ছাচারিতা বেড়ে যাবে। সরকারি অর্থ আত্মসাৎ ও আইনবহির্ভূত কর্মকাণ্ডে জনগণের আস্থা কমছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থায় বড় ধরনের ঝুঁকির আশঙ্কা করছেন তারা।
দাবি ও সুপারিশ:
অভিযুক্ত কর্মকর্তা আশালতা মন্ডল ও কাজী করিব উদ্দিনের বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।
ফকিরহাট থেকে তাদের সরিয়ে অন্যত্র বদলির সুপারিশ করা হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার, এসি ল্যান্ড, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট এবং জেলা আনসার কর্মকর্তার সরাসরি নজরদারির আহ্বান জানানো হয়েছে।
ভবিষ্যতে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ডিউটি তালিকা প্রণয়ন ও অর্থ লেনদেন বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণের পরামর্শ দিয়েছেন স্থানীয়রা।
উপসংহার:
তিন সাংবাদিক— হাফিজুর রহমান, আজিজুল রহমান ও শেখ সুমন আলীর অনুসন্ধানে প্রাপ্ত এ প্রতিবেদন থেকে স্পষ্ট, ফকিরহাট আনসার ও ভিডিপি অফিসে দুর্নীতি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নিয়েছে। সরকারি অর্থ আত্মসাৎ, ঘুষ বাণিজ্য ও ভুয়া সার্টিফিকেটের মাধ্যমে ডিউটি বণ্টন শুধু দুর্গাপূজার নিরাপত্তাকেই নয়, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার ভাবমূর্তিকেও প্রশ্নবিদ্ধ করছে।
ইতোমধ্যে এ অভিযোগ উপজেলা নির্বাহী অফিসার সুমনা আইরিন এর মাধ্যমে জেলা প্রশাসকের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে।