পিরোজপুর জেলা প্রতিনিধি:
পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে ঐতিহাসিক ৭০তম তাফসিরুল কুরআন মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আহমেদ সোহেল মনজুর (এমপি) বলেছেন, পবিত্র কুরআনে প্রদত্ত নির্দেশনা অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করাই একজন মুসলমানের প্রধান দায়িত্ব। কুরআনের শিক্ষা শুধু ইবাদতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং ব্যক্তিগত, পারিবারিক, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রেই তা অনুসরণ করা প্রয়োজন।
গত শুক্রবার রাতে ভাণ্ডারিয়া বন্দরের তাফসির ময়দানে ১০ দিনব্যাপী এ মাহফিলের সমাপনী দিনে আগেরী মোনাজাতের পূর্বে তিনি এসব কথা বলেন। সমাপনী দিনে হাজারো ধর্মপ্রাণ মুসল্লির উপস্থিতিতে পুরো এলাকা এক বিশাল ধর্মীয় সমাবেশে পরিণত হয়। তাফসিরের মাধ্যমে ইসলামের বিভিন্ন দিক সাধারণ মানুষের কাছে সহজভাবে তুলে ধরা হয়।
প্রধান অতিথি বলেন, বর্তমান সমাজে ব্যস্ততার কারণে অনেকেই নামাজের মতো ফরজ ইবাদতকে অবহেলা করছেন। অথচ নামাজ একজন মুসলমানের ঈমানের ভিত্তি। নামাজ থেকে দূরে সরে গেলে মানুষের ঈমান দুর্বল হয়ে পড়ে এবং নৈতিক অবক্ষয় দেখা দেয়। তিনি সবাইকে নিয়মিত নামাজ আদায় ও ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার আহ্বান জানান।
তিনি ‘হালাল জীবিকা’র ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, একজন মুসলমানের উপার্জনের উৎস পবিত্র হওয়া জরুরি। হালাল উপার্জনে জীবনে বরকত আসে, আর হারাম আয় ব্যক্তি ও সমাজ উভয়ের জন্য ক্ষতিকর। তাই সৎ পথে উপার্জন এবং নৈতিকতার ভিত্তিতে জীবন গড়ে তোলার ওপর জোর দেন তিনি।
জাকাত প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সমাজে অনেকেই জাকাত সম্পর্কে সঠিক ধারণা না থাকায় তা যথাযথভাবে আদায় করেন না। এর ফলে দরিদ্র জনগোষ্ঠী তাদের প্রাপ্য থেকে বঞ্চিত হয়। তিনি জাকাতের সঠিক বণ্টনের মাধ্যমে সামাজিক বৈষম্য হ্রাসে গুরুত্বারোপ করেন।
তিনি আরও বলেন, ইসলামী শরিয়াহ একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। আল্লাহর বিধান মেনে চলা প্রতিটি মুসলমানের কর্তব্য। মানুষ যখন এ পথ থেকে বিচ্যুত হয়, তখন আলেম-ওলামারা ওয়াজ, নসিহত ও তাফসিরের মাধ্যমে তাদের সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করেন। এ ধরনের মাহফিল সমাজে নৈতিকতা ও ধর্মীয় চেতনা জাগ্রত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
মাহফিলে আলহাজ¦ মাওলানা মুহাম্মদ আব্দুল জলিল এর সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য দেন ভাণ্ডারিয়া ইসলামী সমাজ কল্যাণ কমপ্লেক্সের আহ্বায়ক ও সাবেক অতিরিক্ত সচিব আবুয়াল হোসেন এবং সদস্য সচিব জুলফিকার আমিন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মনির হোসেন আকন, পৌর বিএনপির আহবায়ক আব্দুল মান্নান, সদস্য সচিব মাসুদ রানা পলাশ, উপজেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আতিকুল ইসলাম উজ্জল তালুকদার, সাবেক সদর চেয়ারম্যান গোলাম সরওয়ার জোমাদ্দার, উপজেলা যুব দলের সদস্য সচিব মোঃ শামীম হাওলাদার প্রমূখ।
সমাপনী দিনে আগেরী মোনাজাত পরিচালনা করেন বিশিষ্ট আলেম মুফতি ফয়জুল্লাহ নেমানী। তিনি দেশ, জাতি ও মুসলিম উম্মাহর শান্তি, সমৃদ্ধি ও হেদায়েত কামনায় বিশেষ দোয়া করেন। হাজারো মুসল্লি আবেগঘন পরিবেশে অশ্রুসিক্ত নয়নে মোনাজাতে অংশ নেন।