কচাকাটা উপজেলা প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কচাকাটা থানার নায়কেরহাট দারুস সুন্নাত দ্বিমুখী দাখিল মাদ্রাসায় অফিস সহায়ক (চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী) নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম, স্বাক্ষর জালিয়াতি ও ১৬ লাখ টাকা ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট ও সভাপতি।
জানা গেছে, গত ৮ অক্টোবর মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) বরাবর লিখিত অভিযোগে নিয়োগ প্রক্রিয়ার বিভিন্ন অনিয়মের কথা তুলে ধরেন ভুক্তভোগী শিক্ষক-কর্মচারী, অভিভাবক সদস্য ও স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা। অভিযোগের অনুলিপি দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, নিয়োগ বিধিমালা তোয়াক্কা না করে মনগড়াভাবে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে।
নিয়োগসংক্রান্ত রেজুলেশনে তিনজন শিক্ষক প্রতিনিধি ও তিনজন অভিভাবক সদস্যের স্বাক্ষর জালিয়াতির অভিযোগও তোলেন তাঁরা।
এছাড়া নিয়োগপ্রাপ্ত প্রার্থী মো. নুরুন্নবীর বাবা আব্দুল জলিল ওরফে জামাদারের কাছ থেকে গোপনে ১৬ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে মাদ্রাসার সুপারিনটেনডেন্ট মো. খালেকুজ্জামান সিদ্দিকী বলেন, “১৬ লাখ টাকা লেনদেনের অভিযোগটি সম্পূর্ণ চক্রান্তমূলক। আমি কোনো টাকা নিইনি।
ঘুষ গ্রহণের কোনো প্রমাণ কেউ দিতে পারলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের যে কোনো শাস্তি মাথা পেতে নেব। বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্তের জন্য আমি আহ্বান জানাচ্ছি।”
একই সুর মিলিয়ে মাদ্রাসার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “এটি সম্পূর্ণ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ঘটনা।
মাদ্রাসার সুনাম ও ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতেই এমন মিথ্যা রটনা ছড়ানো হচ্ছে। নুরুন্নবী সম্পূর্ণ নিজ যোগ্যতায় চাকরি পেয়েছে।”
এদিকে অভিযোগকারীরা জানান, তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিতর্কিত এই নিয়োগের ভিত্তিতে এমপিওভুক্তি বা সরকারি আর্থিক সুবিধা না দেওয়ার জন্য প্রশাসনিক সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।
এ বিষয়ে নাগেশ্বরী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আলাউদ্দিন ও জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম জানান, লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে বিষয়টি নিরপেক্ষ তদন্ত করা হবে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ও কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।