
বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
আজ ১৫ জানুয়ারী ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ, বাংলা বর্ষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১লা মাঘ। আজ আমরা উদযাপন করছি ত্বরিকায়ে মাইজভাণ্ডারীয়ার প্রতিষ্ঠাতা, প্রাণপুরুষ খাতেমুল অলদ, ইমামুল আউলিয়া গাউসুল আযম হযরত মাওলানা শাহ্ সুফি সৈয়দ আহমদ উল্লাহ মাইজভাণ্ডারী (ক.)’র দ্বিশততম জন্মবার্ষিকী।
১৮২৬ খ্রিষ্টাব্দের এই দিনে, চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার মাইজভাণ্ডার গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন এই মহান আধ্যাত্মিক ব্যক্তি। আল্লাহর অশেষ করুণায় পৃথিবীতে উদ্ভাসিত এই উজ্জ্বল নূর, মানুষের নৈরাশ্য ও অন্ধকার দূরীকরণের জন্য প্রেরিত হয়েছিল।
হযরত গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী (ক.)’র জন্মপূর্ব্বাভাস ইতিমধ্যেই বহু শতাব্দী পূর্বে প্রদত্ত হয়েছিল। হযরত আবদুল্লাহ (র.) জানিয়েছিলেন, নবী করিম (দ.)’এর নূর দুই ভাগে বিভক্ত হবে। এক ভাগ আরবের উজ্জ্বল আলোয়, আরেক ভাগ পূর্ব এশিয়ায় উদিত হয়ে নিখিল ধরনীর অন্ধকার দূর করবে। ৬৩৬ হিজরীতে হযরত মহিউদ্দিন ইবনে আরবি এই মহাজ্ঞান প্রদান করেছিলেন যে, নবী করিম (দ.)’র বেলায়েতী নূর পূর্ণরূপে “আহমদ উল্লাহ” নামে উদিত হবে।
হযরত গাউসুল আযম (ক.)’র জন্মভূমি চট্টগ্রামের মাইজভাণ্ডার, যা চীন পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। এখানে বিভিন্ন জাতি ও বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের সমাবেশ ছিল। আল্লাহর করুণায় এই অঞ্চলে জন্মগ্রহণ করেছিলেন তিনি, যার আধ্যাত্মিক আলোর ছায়া বিশ্বমহলে ছড়িয়ে পড়েছে।
জন্মের আগে তাঁর পিতা হযরত মৌলবী সৈয়দ মতিউল্লাহ (র.) ও মাতার হযরত সৈয়দা বিবি খায়রুন্নেসা (র.) স্বপ্নে প্রাপ্ত আভাসে জানেছিলেন, তাঁর পুত্র হবে অত্যন্ত বিশিষ্ট আধ্যাত্মিক ব্যক্তি। এই স্বপ্নে তিনটি উজ্জ্বল মুক্তার উপস্থিতি, তারই সাক্ষ্য দেয়। জন্মগ্রহণের পর তিনি কোন সন্তান রেখে যাননি; তিনি ছিলেন খাতেমুল অলদ, নবী করিম (দ.)’র পূর্ণ সাদৃশ্যের প্রতীক।
হযরত গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী (ক.)’র জীবন দর্শন, কেরামত ও ত্বরিকা-ই-মাইজভাণ্ডারীয়া’র প্রবর্তন বিশ্বজুড়ে ইসলামী আধ্যাত্মিক মহলে বিশেষ মর্যাদা লাভ করেছে। তাঁর দীক্ষা ও বেলায়েতী আলোর ছায়া মানুষের অন্তরে স্থায়ী পরিবর্তন আনতে সক্ষম।
আজ এই দ্বিশততম জন্মবার্ষিকীতে আমরা তাঁর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও প্রণাম জ্ঞাপন করছি। আল্লাহ তাঁর রহমত ও আর্শীবাদ আমাদের সকলের ওপর বর্ষিত করুন।