মোঃ মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারী
জেলা প্রতিনিধি ভোলা
ভোলার দৌলতখান উপজেলায় মসজিদের পাশের একটি সুপারির বাগান থেকে মো. রাকিব (১৮) নামের এক যুবকের রহস্যজনক মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। স্থানীয় পরিবেশ ও পারিপার্শ্বিক আলামত ঘিরে নিহতের মৃত্যুর আসল কারণ নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) ভোরে উপজেলার চরখলীফা ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের একটি সুপারি বাগান থেকে তাঁর মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত রাকিব ওই এলাকার নুরনবী আজগরের ছেলে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, ফজরের নামাজের সময় স্থানীয়রা মসজিদের পাশস্থ সুপারির বাগানে রাকিবের নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। মুহূর্তে খবর ছড়িয়ে পড়লে স্বজন ও স্থানীয় বাসিন্দারা ঘটনাস্থলে ভিড় জমান।
ঘটনাটি হত্যাকাণ্ড, বিদ্যুৎস্পৃষ্টে মৃত্যু, নাকি গাছ থেকে পড়ে যাওয়ার দুর্ঘটনা—এ নিয়ে নানা গুঞ্জন ও প্রশ্ন উঠেছে। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে নিহতের পায়ে সুপারি গাছে ওঠার দাগ রয়েছে। মরদেহের কাছেই মসজিদের শৌচাগারের একটি ঝুলে থাকা বৈদ্যুতিক তার দেখা গেছে। নিহতের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি ঘটনাস্থলের অদূরে একটি নির্মাণাধীন দেয়ালের ওপর অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে।
এলাকাবাসীর একাংশের দাবি, নিহত যুবক বিভিন্ন অপকর্মের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে এটি কোনো পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড নাকি অসাবধানতাবশত দুর্ঘটনা, তা নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
নিহতের বাবা নুরনবী আজগর জানান, রাকিব সকালে ফজরের নামাজ পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিল। পরে খবর পেয়ে মসজিদের পাশে তার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখি। এ ঘটনায় আমাদের কারও প্রতি কোনো সন্দেহ বা অভিযোগ নেই।
খবর পেয়ে দৌলতখান থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহ উদ্ধার করে এবং প্রাথমিক সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ শুরু করে।
দৌলতখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফখরুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, সংবাদ পাওয়ার পরপরই উপ-পরিদর্শক (এসআই) জিয়াউদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বে পুলিশের একটি সংগীয় ফোর্স ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। মরদেহ উদ্ধার করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলছে। মৃত্যুর সঠিক কারণ উদ্ঘাটনে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
মোঃ মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারী
জেলা প্রতিনিধি ভোলা
০১৬১৬৬৬৭৪৯৬