মোঃ মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারী
জেলা প্রতিনিধি (ভোলা)
ভোলার দৌলতখানে ফাহিমা আক্তার (২২) নামের এক গৃহবধূকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার চরখলিফা ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ডের কলাকোপা গ্রামের মিঠু হাওলাদার বাড়িতে ২৮ মে দিবাগত রাতে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত স্বামী সজিব (২৭) ও শাশুড়ি পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ আজ ২৯ মে (শুক্রবার) সকালে ঘরের ভেতর থেকে নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে। নিহত ফাহিমা বোরহানউদ্দিন উপজেলার গঙ্গাপুর ইউনিয়নের ৮ নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবুল কালাম বদ্দারের মেয়ে।স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নিহতের শরীরে পিটুনির প্রাথমিক কিছু চিহ্ন ও আঘাতের দাগ রয়েছে। দিবাগত রাতের কোনো এক সময় এই মারধরের ঘটনা ঘটে, যার জেরে ফাহিমার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পারিপার্শ্বিক প্রমাণ হিসেবে দেখা হচ্ছে স্বামী ও শাশুড়ির আকস্মিক গা-ঢাকা দেওয়াকে। আজ সকালবেলা স্থানীয় লোকজন ঘরে ফাহিমার লাশ পড়ে থাকতে দেখলেও স্বামী সজিব কিংবা তাঁর মাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের দাবি, অপরাধ ধামাচাপা দিতে এবং আইনি গ্রেপ্তার এড়াতেই তারা গভীর রাতে বা ভোরে পালিয়েছেন। নিহতের পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, বিয়ের পর থেকেই চরখলিফা গ্রামের মসু হাওলাদারের ছেলে সজিবের সাথে ফাহিমার বিভিন্ন পারিবারিক বিষয়ে কলহ চলছিল। নিহতের বাবার পরিবারের অভিযোগ, প্রায়ই ফাহিমাকে মানসিক ও শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হতো, যা গতকাল রাতে চরম আকার ধারণ করে।
কলাকোপা গ্রামের ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দারা জানান, গতকাল রাতে সজিবের ঘর থেকে শোরগোল শোনা গিয়েছিল। তবে এটি তাদের নিত্যদিনের পারিবারিক কলহ মনে করে কেউ প্রথমে বিষয়টি নিয়ে মাথা ঘামাননি। আজ সকালে কোনো সাড়াশব্দ না পেয়ে প্রতিবেশীরা ঘরে উঁকি দিয়ে ফাহিমার নিথর দেহ পড়ে থাকতে দেখেন। ঘরের প্রধান ফটক খোলা থাকলেও সজিব বা তাঁর পরিবারের কেউ সেখানে ছিলেন না। এরপরই স্থানীয়রা দ্রুত দৌলতখান থানায় ফোন করে বিষয়টি জানান।
মেয়ের আকস্মিক মৃত্যুর খবর পেয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন বোরহানউদ্দিনের ইউপি সদস্য ও ফাহিমার বাবা আবুল কালাম বদ্দার। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:
আমার মেয়েকে ওরা পরিকল্পিতভাবে পিটিয়ে মেরে ফেলেছে। যদি স্বাভাবিক মৃত্যুই হতো, তবে জামাই আর শাশুড়ি লাশ ফেলে পালালো কেন? আমি আমার মেয়ে হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত এবং সজিবসহ এই ঘটনার সাথে জড়িত সবার ফাঁসি চাই।
দৌলতখান থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফখরুল ইসলাম ঘটনার বিস্তারিত জানিয়ে বলেন:
"আজ ২৯ তারিখ সকালবেলা স্থানীয় জনগণের কাছ থেকে সংবাদ পেয়ে আমাদের পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে মৃতদেহটি উদ্ধার করে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য ভোলা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের মেডিকেল রিপোর্টই হবে এই মামলার সবচেয়ে বড় আইনি ও বৈজ্ঞানিক তথ্য-প্রমাণ। রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করে আমরা পরবর্তী কঠোর আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করব।
ওসি আরও জানান, পলাতক স্বামী সজিব ও তাঁর মাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য খোঁজা হচ্ছে। এই ঘটনায় দৌলতখান থানায় একটি হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে।
মোঃ মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারী
জেলা প্রতিনিধি ভোলা
০১৬১৬৬৬৭৪৯৬