আহমেদ আকবর,
সিলেট
সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাদকবিরোধী অভিযানের পর সাময়িকভাবে মাদককারবারিদের আনাগোনা ও জুয়ার আসর কিছুটা কমলেও বর্তমানে পরিস্থিতি আবারও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। কৌশল বদলে আবারও পুনর্বাসিত হচ্ছে চিহ্নিত মাদকব্যবসায়ীরা।
সুকৌশলে তারা তাদের পুরোনো আস্তানাগুলো সচল করছে। এর ফলে বিপন্ন হতে চলেছে এলাকার তরুণ ও যুবসমাজ।বোর্ডিং ও সুইপার কলোনিতে নিরাপদ আস্তানাঅনুসন্ধানে জানা গেছে, দক্ষিণ সুরমার বেশ কিছু আবাসিক বোর্ডিং বর্তমানে ইয়াবা ব্যবসা এবং মাদকসেবনের নিরাপদ আস্তানায় পরিণত হয়েছে।
এর মধ্যে খান বোর্ডিং, সায়মন বোর্ডিং এবং আপন বোর্ডিং অন্যতম।দিনের আলো ফোটার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত এসব বোর্ডিংয়ে মাদকসেবী ও বিক্রেতাদের গোপন বৈঠক ও আনাগোনা চলে। অন্যদিকে সন্ধ্যার পর থেকেই চিরচেনা পুরোনো রূপ ধারণ করে স্থানীয় সুইপার কলোনি।
অন্ধকার নামার পরপরই কলোনি এলাকায় মাদক বিক্রি ও সেবনের হাট বসে, যা সাধারণ মানুষের চলাচলের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে।কৌশল বদলে মাঠে পুরোনো হোতারাঅভিযানের ধাক্কা সামলে উঠে মাদকব্যবসায়ীরা এখন ভিন্ন ভিন্ন ছদ্মনাম ও নতুন কৌশলে ব্যবসা পরিচালনা করছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদক সাম্রাজ্য পুনর্গঠনে পর্দার আড়াল থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছে বিললু লাল, রিপন লাল, নবীনগরীর আইয়ুব এবং কামালবাজারের সোহেল আওলাদ।আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে তারা সরাসরি মাদক বহন না করে খুচরা বিক্রেতা ও ভ্রাম্যমাণ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদক পৌঁছে দিচ্ছে ক্রেতাদের হাতে।জনসাধারণ ও সুশীল সমাজের উদ্বেগমাদকের এই ভয়াবহ বিস্তারে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দক্ষিণ সুরমার সচেতন নাগরিক সমাজ।
এলাকার সাধারণ মানুষের দাবি, শুধু সাময়িক অভিযান নয়, বরং মাদকের এই স্থায়ী আস্তানাগুলো চিরতরে নির্মূল করতে হবে।সামাজিক অবক্ষয় রোধ এবং আগামী প্রজন্মকে মাদকের মরণফাঁদ থেকে রক্ষা করতে দক্ষিণ সুরমার সর্বস্তরের জনগণ, সুশীল সমাজ ও সচেতন নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সাথে এই মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে প্রশাসনের জোরালো ও সমন্বিত অ্যাকশন এখন সময়ের দাবি।