দক্ষিণ সুরমা সিলেট
আহমেদ আকবর
সিলেটের দক্ষিণ সুরমার অন্যতম ব্যস্ত এলাকা কুমিল্লা পট্টিতে আবারো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে চিহ্নিত জুয়াড়ি চক্র। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিয়ে, কিংবা স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় কুখ্যাত জুয়াড়ি ‘ডেভিল অন্তর’ ও তার সহযোগীরা আবারো চালু করেছে সর্বনাশা ‘শীলং তীর জুয়া’ এবং ‘জানডু-মানডু’ (ঝাণ্ডু-মুণ্ডু) বোর্ড। এর ফলে এলাকার সামাজিক পরিবেশ যেমন চরমভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে, তেমনি সর্বস্বান্ত হচ্ছে শত শত নিম্নআয়ের মানুষ, যুবসমাজ ও শিক্ষার্থী।যেভাবে চলছে সর্বনাশা এই খেলাস্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছুদিন বন্ধ থাকার পর সম্প্রতি কুমিল্লা পট্টির একাধিক গোপন স্পটে এবং আড়ালে আবারো এই জুয়ার আসর জাঁকজমকভাবে শুরু হয়েছে।শীলং তীর জুয়া: ভারতের মেঘালয় রাজ্যের Shillong Teer (তীর ভাঙা) খেলার ওপর ভিত্তি করে এই ডিজিটাল জুয়া পরিচালিত হয়। জুয়াড়িরা নির্দিষ্ট নম্বরের ওপর টাকা লগ্নি করে। ১ টাকায় ৮০ টাকা জেতার প্রলোভন দেখিয়ে রিকশাচালক, দিনমজুর ও স্কুল-কলেজ পড়ুয়া তরুণদের পকেট খালি করছে ডেভিল অন্তরের সিন্ডিকেট।জানডু-মানডু বোর্ড: ছক্কার গুটি এবং বিশেষ বোর্ডের মাধ্যমে তৈরি এই ঐতিহ্যবাহী জুয়াকে আধুনিক ও ডিজিটাল কৌশলে পরিচালনা করছে এই চক্র। মুহূর্তের মধ্যে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে।নেপথ্যে ‘ডেভিল অন্তর’ ও তার সিন্ডিকেটঅনুসন্ধানে জানা যায়, এই পুরো জুয়া সাম্রাজ্যের মূল হোতা স্থানীয়ভাবে ‘ডেভিল অন্তর’ নামে পরিচিত এক অপরাধী। তার অধীনে একদল বেতনভুক্ত লাইনম্যান ও দালাল সক্রিয় রয়েছে, যারা কুমিল্লা পট্টি এবং এর আশপাশের গলিতে জুয়ার টোকেন বিক্রি ও টাকা আদায়ের কাজ করে। সাধারণ মানুষ প্রতিবাদ করতে গেলে ডেভিল অন্তরের পালিত ক্যাডার বাহিনী মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে।সামাজিক অবক্ষয় ও চুরি-ছিনতাইয়ের হিড়িককুমিল্লা পট্টির ব্যবসায়ী এবং স্থানীয় বাসিন্দারা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, এই জুয়া বোর্ডের কারণে এলাকায় অপরাধের মাত্রা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। জুয়ার টাকা জোগাড় করতে গিয়ে স্থানীয় যুবসমাজ মাদক, চুরি, ছিনতাই এবং পারিবারিক কলহে জড়িয়ে পড়ছে। প্রতিদিন শত শত খেটে খাওয়া মানুষ তাদের কষ্টার্জিত আয় এই জুয়ার বোর্ডে খুইয়ে শূন্য হাতে বাড়ি ফিরছে, যার প্রভাব পড়ছে তাদের পরিবারে।প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণনাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় প্রবীণ সমাজসেবক বলেন, “আমরা এই জুয়ার কারণে শান্তিতে ঘুমাতে পারছি না। ডেভিল অন্তরের এই সিন্ডিকেট এতটাই শক্তিশালী যে তাদের বিরুদ্ধে মুখ খোলার সাহস কেউ পায় না। আমরা প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানাই, অবিলম্বে এই স্পটগুলোতে অভিযান চালিয়ে এদের গ্রেফতার করা হোক।”এই বিষয়ে দক্ষিণ সুরমা থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, অপরাধ ও জুয়ার বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান সবসময় ‘জিরো টলারেন্স’। সুনির্দিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতে কুমিল্লা পট্টিসহ সব জুয়ার আস্তানায় খুব শীঘ্রই সাঁড়াশি অভিযান চালানো হবে এবং অপরাধী যতই প্রভাবশালী হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে।