হামিদুর রহমান,রাজশাহী জেলা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর তানোরে মাদকাসক্ত ছেলের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে মাকে নির্যাতন, নেশার টাকা দাবি, গালিগালাজ ও সর্বশেষ বাঁশের লাঠি দিয়ে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী ৬২ বছর বয়সী মা ছায়েরা বেগম তাঁর ছেলে আব্দুল আজিজের বিরুদ্ধে তানোর থানায় লিখিত অভিযোগ করেছেন। পরিবারের সূত্রে জানা যায়, তানোর উপজেলার ১ নম্বর কলমা ইউনিয়নের চোরখৈর গ্রামের ছায়েরা বেগম (৬২) তাঁর আপন ছেলে আব্দুল আজিজ (৪৫)-এর বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন। অভিযুক্ত ছেলে ও তাঁর মা একই বাড়িতে বসবাস করেন। অভিযোগে ছায়েরা বেগম উল্লেখ করেন, তাঁর ছেলে আব্দুল আজিজ প্রায় ১২ বছর ধরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করে আসছেন। পরিবারের অন্যান্য সদস্য, বিশেষ করে ছেলে-মেয়েদের সঙ্গেও বিভিন্ন সময় অশোভন আচরণ ও দুর্ব্যবহার করার অভিযোগ রয়েছে। ভুক্তভোগী মায়ের দাবি, তাঁর ছেলে নিয়মিত মাদক সেবন করেন। মাদক সেবনের জন্য টাকা জোগাড় করতে প্রায়ই তাঁর কাছে টাকা দাবি করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাঁকে গালিগালাজ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং মারধরের হুমকি দেওয়া হয়। এসব ঘটনায় দীর্ঘদিন ধরে পরিবারটির মধ্যে আতঙ্ক ও অশান্তি বিরাজ করছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। গত ১১ আগস্ট বিকেল আনুমানিক ৫টার দিকে পূর্বের বিরোধের জের ধরে বাড়ির সামনে ছেলে আব্দুল আজিজ তাঁর মাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি হাতে থাকা বাঁশের লাঠি দিয়ে তাঁর মায়ের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করেন।
এতে ছায়েরা বেগমের শরীরের বিভিন্ন স্থানে ফুলে যায় এবং কালশিরা পড়ে যায় মারধরের সময় তিনি চিৎকার করতে থাকলে আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে এসে তাঁকে উদ্ধার করেন।
অভিযোগকারী আরও দাবি করেন, স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করার পরও অভিযুক্ত ছেলে উপস্থিত লোকজনের সামনেই তাঁকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেন।
ছায়েরা বেগমের অভিযোগ, এটাই প্রথম নয়। এর আগেও তাঁর ছেলে বিভিন্ন সময় তাঁর সঙ্গে দুর্ব্যবহার, গালিগালাজ ও মারধর করেছেন। দীর্ঘদিন ধরে ছেলের এমন আচরণের কারণে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং পরিবারের সদস্যদের মধ্যেও আতঙ্ক ও অশান্তি বিরাজ করছে।
এ অবস্থায় নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি অভিযুক্ত ছেলের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী মা। এ বিষয়ে তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসএম মাসুদ পারভেজ বলেন, “অভিযোগপত্র পেয়েছি। অভিযোগের বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত সর্বোচ্চ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। তবে অভিযোগে উত্থাপিত মাদকাসক্তি, দীর্ঘদিনের নির্যাতন ও মারধরের বিষয়গুলো তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার আগে এগুলোকে অভিযোগ হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
স্থানীয়দের মতে, পারিবারিক বিরোধ ও মাদকাসক্তির কারণে কোনো মা-বাবা যেন নিজ সন্তানের হাতে নির্যাতনের শিকার না হন, সে জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।