হামিদুর রহমান, তানোর রাজশাহী প্রতিনিধি :
পরিবেশ সংরক্ষণ, সবুজায়ন বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় রাজশাহীর তানোর উপজেলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সরকারি দপ্তর, ইউনিয়ন পরিষদ চত্বর এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের পাশে একযোগে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে উপজেলার সর্বত্র সবুজায়নের বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।
রবিবার উপজেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে “৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি” শীর্ষক এ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়। কর্মসূচিতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধিসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা অংশগ্রহণ করেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও বাসযোগ্য পরিবেশ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সরকার ঘোষিত বৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবে তানোর উপজেলায় এ উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধনের পর দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান তানোর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রমে অংশ নেন। এ সময় বিদ্যালয় চত্বরে বিভিন্ন প্রজাতির ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন তানোর উপজেলা বন কর্মকর্তা সারওয়ার জাহান, তানোর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাইদুর রহমান, বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।
এ সময় শিক্ষার্থীদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধি এবং গাছের গুরুত্ব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়। বক্তারা বলেন, একটি গাছ শুধু অক্সিজেনই সরবরাহ করে না, বরং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা, বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণ, মাটির ক্ষয়রোধ এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পরে দুপুর ১টার দিকে তানোর উপজেলার তালন্দ ইউনিয়নের বিভিন্ন সড়কের পাশে বৃক্ষরোপণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়। এছাড়াও উপজেলার সাতটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা নিজ নিজ ইউনিয়নের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ, সরকারি স্থাপনা এবং খালি জায়গাগুলোতে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। এসব চারার মধ্যে আম, কাঁঠাল, জাম, নিম, মেহগনি, অর্জুন, কৃষ্ণচূড়াসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, শুধু বৃক্ষরোপণ করলেই হবে না, গাছগুলোর নিয়মিত পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে, যাতে সেগুলো বড় হয়ে পরিবেশ ও মানুষের কল্যাণে ভূমিকা রাখতে পারে।
উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, তানোরকে একটি সবুজ ও পরিবেশবান্ধব উপজেলা হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্যে এ ধরনের কর্মসূচি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানভিত্তিক সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বৃক্ষপ্রেমী হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাঈমা খান বলেন, “বৃক্ষই পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার অন্যতম প্রধান উপাদান। বর্তমান বিশ্বে জলবায়ু পরিবর্তনের যে বিরূপ প্রভাব আমরা প্রত্যক্ষ করছি, তা মোকাবিলায় বৃক্ষরোপণের কোনো বিকল্প নেই। তাই শুধু গাছ লাগানো নয়, প্রতিটি গাছের যথাযথ পরিচর্যা নিশ্চিত করতে হবে। একটি সবুজ, বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব তানোর গড়ে তুলতে সমাজের সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “আজকের শিক্ষার্থীরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাদের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা তৈরি করতে পারলে ভবিষ্যতে একটি সবুজ ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ে তোলা সম্ভব হবে।”
স্থানীয় বাসিন্দারা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, পরিকল্পিত বৃক্ষরোপণ ও পরিচর্যার মাধ্যমে তানোর উপজেলার পরিবেশগত উন্নয়ন ঘটবে এবং আগামী প্রজন্ম একটি সুন্দর ও সবুজ পরিবেশ উপহার পাবে।
পরিবেশবিদদের মতে, ক্রমবর্ধমান তাপমাত্রা, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ দূষণের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি অত্যন্ত সময়োপযোগী উদ্যোগ। সরকারের পাশাপাশি সাধারণ মানুষও যদি নিজ নিজ অবস্থান থেকে বৃক্ষরোপণ ও সংরক্ষণে এগিয়ে আসে, তবে দেশের পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষা করা আরও সহজ হবে।