আহমেদ আকবর
ব্যবসায়ী নাসির উদ্দিন মাহমুদের করা মারধর, ভাঙচুর ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মামলায় আদালত থেকে জামিন পেয়ে বের হওয়ার পরপরই এক অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে জড়িয়ে পড়েছেন ঢালিউডের আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনি। জামিনের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়াকে কেন্দ্র করে সংবাদকর্মীদের সঙ্গে তীব্র বাগবিতণ্ডা এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালের অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে। ৫ নভেম্বর ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত প্রাঙ্গণে এ ঘটনা ঘটে।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত:
প্রত্যক্ষদর্শী ও মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ধার্য তারিখে আদালতে হাজির না হওয়ায় আগের দিন পরীমনির জামিন বাতিল করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছিলেন আদালত। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৫ নভেম্বর সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তিনি। শুনানি শেষে ঢাকার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মাহফুজুর রহমান ৫০০ টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।
জামিন প্রক্রিয়া শেষ করে পরীমনি যখন তার নিরাপত্তাকর্মী ও সহকারীদের নিয়ে আদালত ভবন থেকে বের হচ্ছিলেন, তখন উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীরা তার প্রতিক্রিয়া জানতে চান। হেঁটে নিজের সাদা গাড়ির দিকে যাওয়ার সময় ভিড়ের মধ্যে হুট করেই ক্ষুব্ধ ও উত্তেজিত হয়ে ওঠেন এই অভিনেত্রী।
গাড়িতে ওঠার মুহূর্তে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগ তোলেন পরীমনি। তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে তাকে বলতে শোনা যায়, "কত বড় সাহস, গায়ের মধ্যে হাত দেয়, সাহস দেখায়।" এ সময় তার মুঠোফোনে ভিডিও ধারণ করতে থাকা দৈনিক সমকালের মাল্টিমিডিয়া প্রতিবেদক রবিউল ইসলাম রাজুর দিকে তেড়ে যান এবং তার সাথে তীব্র বাগবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।
সাংবাদিকদের মোবাইল কেড়ে নেওয়ার অভিযোগ:
ভুক্তভোগী সংবাদকর্মীদের অভিযোগ, বাগবিতণ্ডার একপর্যায়ে পরীমনি নিজে ওই সাংবাদিকের মোবাইল ফোন কেড়ে নেন এবং উপস্থিত সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। একই সাথে অপর এক সংবাদকর্মীর হাত খামচে দেওয়া এবং ট্রাইপড ভাঙচুর করার অভিযোগও ওঠে।
ধাক্কাধাক্কিতে আহত সাধারণ বিচারপ্রার্থী:
এদিকে পরীমনিকে ঘিরে থাকা কালো পোশাকধারী ব্যক্তিগত বডিগার্ডদের অতি-তৎপরতা এবং ধাক্কাধাক্কিতে আদালত প্রাঙ্গণে সুজন চন্দ্র মনি দাস নামে এক সাধারণ বিচারপ্রার্থীর মাথা ফেটে রক্তাক্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ওই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পর দ্রুত গাড়িতে উঠে আদালত চত্বর ত্যাগ করেন পরীমনি। এ ঘটনায় উপস্থিত সংবাদকর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।