মোঃ শাহজাহান বাশার
ঢাকা, ৮ মার্চ ২০২৬ (রবিবার): বাংলাদেশের খাদ্যপণ্য জাপানের বাজারে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়ার কথা জানিয়েছেন খাদ্য, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। রোববার সচিবালয়ে তাঁর দপ্তরে Japan International Cooperation Agency (জাইকা)-এর প্রধান প্রতিনিধি ইচিগুছি তমুহিদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি এ তথ্য জানান।
বৈঠকে জাইকার অর্থায়নে পরিচালিত Food Safety Testing Capacity Development Project-এর অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। প্রায় ১০ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ২ হাজার ৪০৯ কোটি ৭০ লাখ টাকা। প্রকল্পের আওতায় ঢাকায় একটি অত্যাধুনিক ফুড সেফটি রেফারেন্স ল্যাবরেটরি এবং চট্টগ্রাম ও খুলনায় দুটি আধুনিক খাদ্য পরীক্ষাগার ও প্রশিক্ষণ ভবন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি জনবল প্রশিক্ষণ, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে পরীক্ষণ পদ্ধতি উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
খাদ্যমন্ত্রী বলেন, “বিশ্বব্যাপী খাদ্য নিরাপত্তা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বাংলাদেশের খাদ্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা গেলে বৈশ্বিক বাজারে খাদ্যপণ্য রপ্তানি সহজ হবে।” তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের খাদ্যপণ্য রপ্তানির বড় সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্ববাজারে এসব পণ্যের চাহিদাও আছে। প্রয়োজন সঠিক পরিকল্পনা ও উদ্যোগ।”
বৈঠকে জাপান ও আসিয়ান দেশগুলোর আদলে একক ও সমন্বিত খাদ্য ব্যবসা লাইসেন্স ব্যবস্থা চালুর বিষয়েও আলোচনা হয়। জাইকার পক্ষ থেকে জানানো হয়, ভারত ও পাকিস্তানে ইতোমধ্যে ওয়ান-স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে খাদ্য ব্যবসার লাইসেন্স প্রদান শুরু হয়েছে। বাংলাদেশেও একই ধরনের সেবা চালু হলে ব্যবসায়িক প্রক্রিয়া সহজ হবে এবং রপ্তানি সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে বলে মত দেন প্রতিনিধিরা।
মন্ত্রী নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে উৎপাদন থেকে ভোক্তার টেবিল পর্যন্ত খাদ্য শৃঙ্খলের প্রতিটি ধাপে সমস্যা ও চ্যালেঞ্জ চিহ্নিত করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, “খাদ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ, সংরক্ষণ ও বিপণন—প্রতিটি পর্যায়ে মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করতে হবে। তাহলেই আন্তর্জাতিক বাজারে আস্থা তৈরি হবে।”
এ সময় খাদ্য সচিব মোঃ ফিরোজ সরকারসহ খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এবং জাইকার ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
মন্ত্রী জাইকার অর্থায়নে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য সংস্থাটিকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, “এ প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের খাদ্য ব্যবস্থাপনায় আরও শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা হবে এবং রপ্তানির নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে।”