জাহিদ হাসান
স্টাফ রিপোর্টার, ঢাকা
অতিরিক্ত গতি, ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেক ও অতিরিক্ত যাত্রী বহনে বাড়ছে সড়ক দুর্ঘটনা।
দেশজুড়ে সড়কে বেড়েই চলেছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি। যানবাহনের অতিরিক্ত গতি, নিয়ম না মেনে ওভারটেক করা এবং ধারণক্ষমতার চেয়ে বেশি যাত্রী বহন—এই তিনটি কারণকে দুর্ঘটনার প্রধান উৎস হিসেবে চিহ্নিত করছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রতিদিনই কোথাও না কোথাও ঘটছে প্রাণহানির ঘটনা, আর এতে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্ধারিত গতিসীমা অমান্য করে দ্রুতগতিতে যানবাহন চালানোই অধিকাংশ দুর্ঘটনার মূল কারণ। অনেক চালক সময় বাঁচাতে কিংবা বেশি ট্রিপ দেওয়ার আশায় বেপরোয়া গতিতে গাড়ি চালান। এতে করে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে মারাত্মক দুর্ঘটনা ঘটে।
এর পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ ওভারটেকিং এখন সড়কের নিত্যদিনের দৃশ্য। সরু রাস্তা বা বাঁক থাকা সত্ত্বেও বিপরীত দিক থেকে আসা যানবাহন উপেক্ষা করে ওভারটেক করার প্রবণতা ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এতে করে মুখোমুখি সংঘর্ষের মতো বড় দুর্ঘটনা ঘটছে প্রায়ই।
অন্যদিকে, অতিরিক্ত যাত্রী বহনের প্রবণতাও বাড়ছে। বিশেষ করে গণপরিবহনগুলোতে দাঁড়িয়ে যাত্রী নেওয়া, দরজায় ঝুলে যাতায়াত করা এখন যেন সাধারণ চিত্র। এতে যাত্রীরা যেমন ঝুঁকিতে থাকেন, তেমনি সামান্য দুর্ঘটনাতেই প্রাণহানির আশঙ্কা বহুগুণ বেড়ে যায়।
সড়ক ব্যবহারকারীরা বলছেন, শুধু চালকদের নয়, যাত্রীদের মাঝেও সচেতনতার অভাব রয়েছে। অনেক যাত্রী তাড়াহুড়ার কারণে ঝুঁকি জেনেও অতিরিক্ত যাত্রীবাহী গাড়িতে উঠছেন।
ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, নিয়ম ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তবে দুর্ঘটনা কমাতে শুধু আইন প্রয়োগই যথেষ্ট নয়, প্রয়োজন চালক ও যাত্রী উভয়ের সচেতনতা বৃদ্ধি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, “কখনো না পৌঁছানোর চেয়ে দেরিতে পৌঁছানো ভালো”—এই বার্তাটি সবার মধ্যে ছড়িয়ে দিতে পারলে অনেক দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে সবাইকে নিয়ম মেনে চলার বিকল্প নেই।