• মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬, ০৬:২৩ অপরাহ্ন
  • [gtranslate]
Headline
ঢাকা জেলা ডিবি (দক্ষিণ) অভিযান: বিদেশি পিস্তল, ম্যাগাজিন ও গুলিসহ দুইজন গ্রেফতার উন্নয়নের মুখোশের আড়ালে রাষ্ট্র ধ্বংসের মহাযজ্ঞ-দুর্নীতি সাংবাদিক সুজন মন্ডলের ওপর মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবিতে শ্রীপুরে সাংবাদিকদের মানববন্ধন মধ্যনগরের ইউএনও উজ্জ্বল রায়ের বদলিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আক্ষেপ তানোরে তুলার গুদামে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: নিয়ন্ত্রণে আনতে হিমশিম ফায়ার সার্ভিস আলোচনার শীর্ষে মেম্বার প্রার্থী সৈয়দ মোঃ সাইফুল ইসলাম ধর্মপাশায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান, বিভিন্ন অপরাধে ৫ জনকে জরিমানা তানোরে আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত: র‍্যালি ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত মধ্যনগর উপজেলাবাসীকে পবিত্র ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা জানালেন সেলিম মুন্না ঈদ উপলক্ষে শুভেচ্ছা ও দোয়া চাইলেন ৯ নং ওয়ার্ডের মেম্বার পদপ্রার্থী সৈয়দ মোঃ সাইফুল ইসলাম

উন্নয়নের মুখোশের আড়ালে রাষ্ট্র ধ্বংসের মহাযজ্ঞ-দুর্নীতি

Reporter Name / ৩৪ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১০ মার্চ, ২০২৬

মো. শাহজাহান বাশার

রাষ্ট্র যখন উন্নয়নের গল্প বলে, তখন নাগরিকেরা আশার আলো দেখে। কিন্তু সেই আলো যদি দুর্নীতির অন্ধকারে ঢেকে যায়, তখন উন্নয়ন হয়ে ওঠে কাগুজে স্লোগান। আজ আমাদের সমাজে দুর্নীতি আর বিচ্ছিন্ন কোনো অপরাধ নয়; এটি একটি প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোয় রূপ নিয়েছে। দুর্নীতি এখন কেবল ঘুষের টেবিলেই সীমাবদ্ধ নয়—এটি নীতি নির্ধারণে, বাজেট বরাদ্দে, প্রকল্প বাস্তবায়নে, নিয়োগে, পদোন্নতিতে, এমনকি বিচার ব্যবস্থার প্রক্রিয়াতেও প্রবেশ করেছে।

প্রশ্ন হচ্ছে—কেন দুর্নীতি এত শক্তিশালী? উত্তরটি সহজ নয়, কিন্তু বাস্তবতা নির্মম।

দুর্নীতির সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক হলো দায়মুক্তি। যখন কেউ জানে, অপরাধ করেও শাস্তি হবে না—তখন সে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। রাজনৈতিক ছত্রছায়া, প্রশাসনিক প্রভাব, অর্থনৈতিক ক্ষমতা—এই তিনের সমন্বয়ে তৈরি হয় এক অদৃশ্য সুরক্ষা বলয়।

দুর্নীতিবাজরা কখনও একা কাজ করে না। তারা নেটওয়ার্ক তৈরি করে—দালাল, মধ্যস্থতাকারী, প্রভাবশালী কর্মকর্তা, অসাধু ব্যবসায়ী—সবাই মিলে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দাঁড়ানো সাধারণ নাগরিকের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

আর এখানেই জন্ম নেয় ভয়। যে কর্মকর্তা সৎ থাকতে চান, তিনিও অনেক সময় চাপে পড়ে আপস করেন। কারণ দুর্নীতির বিরুদ্ধে দাঁড়ানো মানে একা হয়ে যাওয়া।

উন্নয়ন প্রকল্প এখন অনেকের কাছে “সুযোগ”। বড় বড় অবকাঠামো প্রকল্পে বাজেট বাড়ানো, অপ্রয়োজনীয় ব্যয় দেখানো, নিম্নমানের কাজ করে বিল উত্তোলন—এসব যেন অলিখিত নিয়মে পরিণত হয়েছে।

একটি রাস্তা কয়েক মাসের মধ্যে ভেঙে যায়, একটি ভবন হস্তান্তরের আগেই ফাটল ধরে, একটি সেতু ব্যবহারের আগেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে—এগুলো কেবল প্রকৌশলগত ব্যর্থতা নয়; এগুলো দুর্নীতির প্রতিফলন। জনগণের টাকায় নির্মিত অবকাঠামো যদি জনগণের জীবনই বিপন্ন করে, তবে সেটি উন্নয়ন নয়—এটি প্রতারণা।

ব্যাংক ঋণ কেলেঙ্কারি, খেলাপি সংস্কৃতি, অর্থ পাচার—এসব এখন প্রায় পরিচিত শব্দ। বড় অংকের ঋণ নিয়ে তা ফেরত না দেওয়ার প্রবণতা একটি ভয়াবহ বার্তা দেয়—আইন সবার জন্য সমান নয়।

ছোট ব্যবসায়ী বা কৃষক ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হয়, কিন্তু প্রভাবশালী গোষ্ঠী হাজার কোটি টাকা আত্মসাৎ করেও আইনি জটিলতার আড়ালে নিরাপদে থাকে। এতে রাষ্ট্রের আর্থিক কাঠামো দুর্বল হয়, মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে, সাধারণ মানুষ ভোগান্তিতে পড়ে।

প্রশ্নফাঁস, ভুয়া সনদ, নিয়োগে অনিয়ম—এসব ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে ধ্বংস করছে। একজন অযোগ্য ব্যক্তি যখন ঘুষ দিয়ে শিক্ষক বা কর্মকর্তা হন, তখন পুরো প্রজন্ম ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

স্বাস্থ্যখাতে দুর্নীতি আরও ভয়াবহ। ওষুধ ক্রয়ে অনিয়ম, ভুয়া টেন্ডার, হাসপাতালের সরঞ্জাম ক্রয়ে অতিরিক্ত বিল—এসবের বোঝা বহন করে রোগী। কখনও জীবন দিয়েও।

দুর্নীতি শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতি করে না; এটি সমাজের নৈতিক মেরুদণ্ড ভেঙে দেয়। যখন শিশু দেখে তার বাবা “কাজ করাতে” টাকা দেন, তখন সে শেখে—ঘুষ দেওয়া-নেওয়া স্বাভাবিক।

ধীরে ধীরে সততা হয়ে যায় দুর্বলতা, আর অসততা হয়ে ওঠে কৌশল। সমাজে তখন মূল্যবোধের জায়গা দখল করে সুবিধাবাদ।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা একটি বড় শক্তি। সত্য প্রকাশের সাহস থাকতে হবে। তবে শুধু প্রকাশ করলেই চলবে না—সাংবাদিকদের নিরাপত্তা, তথ্যের স্বাধীনতা, হুইসেলব্লোয়ারদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।

নাগরিক সমাজকে সক্রিয় হতে হবে। সামাজিক আন্দোলন ছাড়া দুর্নীতির সংস্কৃতি ভাঙা কঠিন। সচেতনতা, সামাজিক চাপ ও জনমত—এসব বড় শক্তি।

ই-গভর্ন্যান্স, ডিজিটাল পেমেন্ট, অনলাইন টেন্ডার—এসব দুর্নীতি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে প্রযুক্তিও যদি দুর্নীতিবাজদের নিয়ন্ত্রণে থাকে, তাহলে সেটিও অপব্যবহারের হাতিয়ার হয়ে উঠতে পারে।

সুতরাং প্রয়োজন স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো রাজনৈতিক সদিচ্ছা। শীর্ষ পর্যায়ে যদি দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি কার্যকরভাবে প্রয়োগ না হয়, তবে নিচের স্তরে কোনো পরিবর্তন আসবে না।

আইনের প্রয়োগে বৈষম্য থাকলে দুর্নীতি কখনও কমবে না। প্রভাবশালী হোক বা সাধারণ—অপরাধ করলে শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে নীরব থাকা মানে দুর্নীতিকে প্রশ্রয় দেওয়া। আমরা যদি নিজের অবস্থান থেকে আপস করি, তাহলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আমাদের ক্ষমা করবে না।

রাষ্ট্র বাঁচাতে হলে, উন্নয়নকে বাস্তব রূপ দিতে হলে, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে হলে—দুর্নীতির বিরুদ্ধে একটি সর্বাত্মক সামাজিক, প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে।

দুর্নীতি কোনো নিয়তি নয়; এটি মানুষের তৈরি। আর মানুষ চাইলে এটিকে রোধও করতে পারে।

লেখক পরিচিতি
মোঃ শাহজাহান বাশার
সম্পাদক ও প্রকাশক -দৈনিক জনতার মতামত
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, জাতীয় দৈনিক মানবাধিকার প্রতিদিন
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ও প্রকাশক-ANB24.net ,
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার ও প্রকাশক-দৈনিক সরেজমিন,
এক্সিকিউটিভ এডিটর ও প্রকাশক- দৈনিক যুগান্তর বাংলাদেশ
স্টাফ রিপোর্টার, দৈনিক জনতার খবর
প্রকাশক-সময় এডিসন

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category
bdit.com.bd