হামিদুর রহমান
তানোর রাজশাহী প্রতিনিধি : আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে রাজশাহীর তানোর উপজেলায় সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। উপজেলায় মোট ৬১টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৩১টি কেন্দ্রকে অতি গুরুত্বপূর্ণ, ১৬টি কেন্দ্রকে গুরুত্বপূর্ণ এবং বাকি ১৪টি কেন্দ্রকে সাধারণ কেন্দ্র হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন।
শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে তানোর উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্যরা নিয়মিত টহল দিচ্ছেন। পাশাপাশি যৌথ বাহিনীর টহল, চেকপোস্ট ও তল্লাশি কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, আগামী বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সব ধরনের প্রস্তুতি ইতোমধ্যেই সম্পন্ন করা হয়েছে।
এদিকে এ আসনে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রচার-প্রচারণা ও গণসংযোগ কার্যক্রম পরিচালনা করেছেন বলে জানা গেছে।
অতি গুরুত্বপূর্ণ ৩১টি ভোটকেন্দ্র
প্রশাসনের তালিকা অনুযায়ী তানোর উপজেলার অতি গুরুত্বপূর্ণ ভোটকেন্দ্রগুলো হলো—
কলমা ইউনিয়ন ইউপির চোরখৈর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,
আজিজপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,
দরগাডাঙ্গা উচ্চ ও প্রাথমিক বিদ্যালয়,
নড়িয়াল দাখিল মাদ্রাসা,
নারায়নপুর উচ্চ বিদ্যালয়,
হাঁপানিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,
গাল্লা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,
জোতগোকুল প্রাথমিক বিদ্যালয়,
মুন্ডুমালা সরকারি প্রাথমিক ও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়, বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়,
সাতপুকুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়,
ময়েনপুর উচ্চ বিদ্যালয়,
বনকেশর প্রাথমিক বিদ্যালয়,
ইলামদহী প্রাথমিক বিদ্যালয়,
কোয়েল উচ্চ বিদ্যালয়,
কচুয়া–১ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,
মোহাম্মাদপুর সরকারি প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়,
দূবইল সরকারি প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়,
তালন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,
লালপুর প্রাথমিক ও সংলগ্ন উচ্চ বিদ্যালয়,
মথুরাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,
তানোর বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়,
কালীগঞ্জ হাট উচ্চ বিদ্যালয়,
শ্রীখন্ডা বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়,
হরিপুর দ্বিতীয় উচ্চ বিদ্যালয়,
ধানোরা প্রাথমিক বিদ্যালয়,
আবু বকর স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং
চান্দুড়িয়া দাখিল মাদ্রাসা।
গুরুত্বপূর্ণ ১৬টি ভোটকেন্দ্র
গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত কেন্দ্রগুলো হলো—
কিসমত বিল্লি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ,
মালবান্দা উচ্চ ও প্রাথমিক বিদ্যালয়,
বাঁধাইড় প্রাথমিক বিদ্যালয়,
চুনিয়াপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় ও হাজী এক্তার আলী উচ্চ বিদ্যালয়,
বিনোদপুর নিম্ন ও প্রাথমিক বিদ্যালয়,
তালন্দ এ এম উচ্চ বিদ্যালয়,
চাপড়া প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়,
তানোর পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়,
সরকারি আব্দুল করিম সরকার কলেজ,
আকচা উচ্চ বিদ্যালয়,
মির্জাপুর প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়,
কামারগাঁ প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয় এবং
কচুয়া–২ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
সাধারণ ১৪টি ভোটকেন্দ্র
সাধারণ হিসেবে বিবেচিত কেন্দ্রগুলো হলো—
কলমা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,
কন্দপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়,
জুমারপাড়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়,
পাঁচন্দর প্রাথমিক বিদ্যালয়,
কৃষ্ণপুর প্রাথমিক ও সংলগ্ন উচ্চ বিদ্যালয়,
তাঁতিহাটি প্রাথমিক বিদ্যালয়,
সরণজাই সরকারপাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয়,
সরণজাই প্রাথমিক ও সংলগ্ন উচ্চ বিদ্যালয়,
মোহর প্রাথমিক ও সংলগ্ন উচ্চ বিদ্যালয়,
মাদারিপুর প্রাথমিক বিদ্যালয়,
পারিশো দুর্গাপুর প্রাথমিক ও সংলগ্ন উচ্চ বিদ্যালয়,
মিরাপুর হাতিশাইল প্রাথমিক ও সংলগ্ন উচ্চ বিদ্যালয় এবং
কাঠালপাড়া উচ্চ বিদ্যালয়।
বডি ক্যামেরা ব্যবহারের সিদ্ধান্ত
অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোর নিরাপত্তা বিষয়ে জানতে চাইলে তানোর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহিনুজ্জামান বলেন,
“অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে পুলিশের বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হবে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নাঈমা খান বলেন,
“ঝুঁকিপূর্ণ বলে আলাদা করে কিছু নেই। নির্বাচনের নিয়মিত প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবেই কিছু কেন্দ্রকে অতি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। সব কেন্দ্রের ওপরই আমাদের নজরদারি রয়েছে। তবে অতি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বাড়তি প্রশাসনিক ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে এবং সিসি ক্যামেরার মাধ্যমে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হবে। কোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তাৎক্ষণিক আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
“এ উপজেলায় প্রার্থীরা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রচারণা চালিয়েছেন। আশা করছি, ভোটের দিনও একই পরিবেশ বজায় থাকবে।”
প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তানোর উপজেলায় অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ ভোটগ্রহণ নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।