প্রিন্ট এর তারিখঃ এপ্রিল ২০, ২০২৬, ৮:০৬ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ এপ্রিল ২০, ২০২৬, ১২:৪৭ অপরাহ্ণ
আনোয়ারায় এখন তিনটি সার কারখানায় বন্ধ (ডিএপি)

মুহাম্মদ জিয়া উদ্দিন, বিশেষ প্রতিনিধি চট্টগ্রাম :
দক্ষিণ চট্টগ্রামের উপজেলা আনোয়ারায় অবস্থিত ডিএপি
রাষ্ট্রায়ত্ত সার কারখানা ডাই-অ্যামোনিয়া ফসফেট (ডিএপি) ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডে উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়েছে। অ্যামোনিয়া–সংকটে গত শনিবার রাত ৮টার দিকে কারখানাটিতে সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। কারখানাটি চট্টগ্রামের উপজেলা আনোয়ারার রাঙাদিয়া এলাকায় অবস্থিত।
কারখানার কর্মকর্তাদের সূত্রে জানা যায়, তার নিকটবর্তী ২ সার কারখানা চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (সিইউএফএল) ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) থেকে সরবরাহ করা অ্যামোনিয়া নিয়ে ডিএপি কারখানায় উৎপাদন কার্যক্রম পরিচালিত হয়। তবে গত ৪ মার্চ গ্যাস–সংকটের কারণে সিইউএফএল ও কাফকোতে অ্যামোনিয়া উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। ফলে দুটি কারখানা থেকে ডিএপি সার কারখানায়ও অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় মজুত থাকা অ্যামোনিয়া দিয়ে প্রায় দেড় মাস উৎপাদন অব্যাহত রাখে ডিএপি সার কারখানা। মজুত শেষ হওয়ায় গত শনিবার রাতে কারখানার উৎপাদন বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ডিএপি সার কারখানাটি নিয়ন্ত্রণ করে শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)। এ কারখানা দেশের কৃষিক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। দেশের কৃষি খাতে যৌগিক সারের (নাইট্রোজেন ও ফসফরাস–সংবলিত) চাহিদা মেটানোর লক্ষ্যে সরকার কারখানাটি স্থাপন করে। ২০০৬ সাল থেকে কারখানাটিতে বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু হয়। ওই কারখানার দুটি ইউনিটের প্রতিটিতে ৮০০ মেট্রিক টন সার উৎপাদনের ক্ষমতা রয়েছে।
সূত্রে আরো জানা যায়, ডিএপি সার কারখানার ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মোহাম্মদ মাঈনুল হক বলেন, ‘গত ৪ মার্চ থেকে আমরা অ্যামোনিয়া পাচ্ছি না। এরপরও আগের মজুত দিয়ে কারখানায় উৎপাদন চলে আসছিল। মজুত শেষ হওয়ায় আপাতত উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। যখনই অ্যামোনিয়া পাওয়া যাবে, পুনরায় উৎপাদন শুরু হবে। তবে সরকারের উচিত হবে অতি দ্রুত গ্যাস সরবরাহ করে আনোয়ারায় অবস্থিত এই সার কারখানা গুলো চালু রাখা।
© স্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫