মোঃ শাহজাহান বাশার, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
ঢাকা: বাংলাদেশে নিযুক্ত প্রাক্তন মার্কিন রাষ্ট্রদূত জেমস মোরিয়ার্টি আজকের রায়কে ‘বৃহৎ গুরুত্বের’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সম্প্রতি বিসিসির সঙ্গে এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মোরিয়ার্টি বলেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্য এই রায় রাজনৈতিক ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ একটি মুহূর্ত।
মোরিয়ার্টি মন্তব্য করেন, আওয়ামী লীগ ১৯৭১ সালের স্বাধীনতার পর থেকে ১৫ বছর ক্ষমতায় থাকার বিরল অর্জন করেছে। এটি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি ‘অপ্রত্যাশিত’ ঘটনা। তিনি বলেন, “হাসিনার দল একপক্ষীয় রাষ্ট্র গড়ার জন্য সংবিধান সংশোধন ও বিভিন্ন আইনগত ব্যবস্থা পরিবর্তন করেছিল। তবে বর্তমানে রাজনৈতিক দৃশ্যপট পরিবর্তনের দিকে এগোচ্ছে, এবং দেশের ভবিষ্যত কেমন হবে তা নিয়ে এখন আলোচনা ও বিতর্ক শুরু হয়েছে।”
প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত অনুমান করেন, যদি রায়ে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত আসে, তবে সামান্য সহিংসতা হতে পারে, তবে তা প্রচণ্ড মাত্রায় বৃদ্ধি পাবে না। তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগের সদস্যরা একটি গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের সিদ্ধান্ত নির্ধারণ করবে, ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে তারা কী ভূমিকা রাখবে।”
মোরিয়ার্টি আরও বলেন, “যদি রায়ে খালাস দেওয়া হয়, তাহলে তা বিস্তৃত প্রতিবাদের ঝড় তুলতে পারে। তবে এ ধরনের পরিস্থিতির মাত্রা নির্ভর করবে রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়ার উপর।”
তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সংলাপ ও সংবিধান অনুযায়ী শান্তিপূর্ণ প্রক্রিয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “দেশের জনগণ শান্তিপূর্ণভাবে তাদের রাজনৈতিক ইচ্ছা প্রকাশ করতে সক্ষম হওয়া উচিত। রাজনীতির উত্তাপ থাকা স্বাভাবিক, তবে তা সহিংসতার দিকে ঝুঁকতে দেবার কথা নয়।”
এই সাক্ষাৎকারে মোরিয়ার্টি বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের বিশ্লেষণও দেন। তিনি বলেন, দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী এবং নিরপেক্ষভাবে কাজ করলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা সম্ভব। “নেতৃত্বের পরিবর্তন এবং রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রক্রিয়া দেশের জন্য দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ফলাফল আনতে পারে,” তিনি মন্তব্য করেন।
উল্লেখ্য, আজকের রায় বাংলাদেশের রাজনৈতিক মহলে নতুন অধ্যায়ের সূচনা করতে পারে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই রায় দেশের ভবিষ্যত প্রজন্মের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে।