মোঃ মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারী
ভোলা জেলা প্রতিনিধি:
ভোলার দৌলতখানে স্বামীর ঘরে পড়াশোনা ও পরীক্ষা দেওয়াকে কেন্দ্র করে পারিবারিক কলহের জেরে রেজবি বেগম (২২) নামের এক ওমান প্রবাসীর স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার (৮ জুন) বিকেল ৫টায় উপজেলার চরপাতা ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের নলগোড়া এলাকার মাতব্বর বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
নিহত রেজবি বেগম একই উপজেলার চরখলিফা ইউনিয়নের কলাকোপা গ্রামের সালাউদ্দিন মিয়ার মেয়ে এবং মাতব্বর বাড়ির ওমান প্রবাসী সুমন মিয়ার স্ত্রী।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক বছর আগে ওমান প্রবাসী সুমনের সঙ্গে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পারিবারিকভাবে রেজবির বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে রেজবি তার শ্বশুরবাড়িতেই থাকতেন এবং সেখান থেকেই পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। সম্প্রতি তার অনার্স প্রথম বর্ষের ফাইনাল পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির লোকজন, বিশেষ করে তার শাশুড়ি এই পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার বিষয়ে তীব্র দ্বিমত পোষণ করেন।
সোমবার সকালে পরীক্ষা দেওয়াকে কেন্দ্র করে শাশুড়ির সঙ্গে রেজবির প্রচণ্ড বাগবিতণ্ডা হয়। দীর্ঘদিন ধরে পড়াশোনা ও অন্যান্য পারিবারিক বিষয় নিয়ে শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মানসিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত স্বপ্নের পরীক্ষায় বসার পথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এই গৃহবধূ। অভিমান করে নিজ ঘরের ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন। খবর পেয়ে দৌলতখান থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে লাশ উদ্ধার করে।
এদিকে রেজবির এই মর্মান্তিক মৃত্যুর পর এলাকায় নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। প্রতিবেশীদের পক্ষ থেকে একটি চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে এসেছে। স্থানীয়দের দাবি, ওমান প্রবাসী সুমনের সঙ্গে বিয়ের মাত্র এক বছর আগে রেজবির অন্য জায়গায় আরেকটি বিয়ে হয়েছিল। তবে সেই সংসারটি দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। রেজবির মা নিজে উদ্যোগী হয়ে আগের জামাইয়ের কাছ থেকে মেয়েকে ছাড়িয়ে নিয়ে এসেছিলেন। আগের বিয়ের বিচ্ছেদ এবং পড়াশোনা নিয়ে শ্বশুরবাড়ির মানসিক চাপ—সব মিলিয়ে মেয়েটি চরম মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
রেজবির এমন অকাল মৃত্যুতে তার পরিবারে বইছে শোকের মাতম। মেয়ের এমন পরিণতিতে মা-বাবার আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে এলাকার বাতাস। পড়াশোনা করার অদম্য ইচ্ছা কেন মেয়ের মৃত্যুর কারণ হলো, তা ভেবে নির্বাক স্বজনরা।
খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে লাশ উদ্ধার করেছে। পরিবার ও প্রতিবেশীদের কাছ থেকে বিভিন্ন তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। এই মুহূর্তে নিহতের পরিবার শোকগ্রস্ত। ঘটনার পেছনে অন্য কোনো কারণ আছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
মেধাবী এক গৃহবধূর পড়াশোনার অধিকার কেড়ে নেওয়া এবং তার জেরে এই আত্মহত্যার ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
মোঃ মাকছুদুর রহমান পাটোয়ারী
ভোলা জেলা প্রতিনিধি
০১৬১৬৬৬৭৪৯৬